নাটোর: জেলার লালপুর উপজেলার পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক জেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অপর এক জেলে প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে রক্ষা পান।
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জেলে মো. সাহাবুল ইসলাম (৪৫) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। আহত রবিউল ইসলাম (৩৭) সাড়া চানমাড়ী গোরস্তান এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লালপুর থানার রাইটার চর এলাকায় পদ্মা নদীর কিনারায় একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকায় অবস্থান করছিলেন মো. সাহাবুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম। তারা গত দুই দিন ধরে ওই এলাকায় মাছ ধরছিলেন।
সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে চর এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে আসা ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নদীর তীরের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে নৌকাটিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় সাহাবুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন। গুলিটি তার ডান কাঁধের উপরের অংশে আঘাত করে শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সঙ্গে থাকা রবিউল ইসলাম আতঙ্কিত হয়ে প্রাণ বাঁচাতে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে তিনি দূরে সরে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। এ সময় তার শরীর ও দুই হাতে সামান্য আঘাত লাগে। ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে ওই এলাকা থেকে সাহাবুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সাথে যৌথভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আইনগত কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সাহাবুল ইসলামের মরদেহ এবং একটি কালো রঙের শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। নিহতের সঙ্গে থাকা রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, হামলাকারীদের তিনি চিনতে পারেননি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।