Saturday 20 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তিস্তায় পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, উজানের ঢলে বাড়ছে উদ্বেগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ জুন ২০২৬ ২৩:৫৬

তিস্তায় পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর: ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি ফের বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এরই মধ্যে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে এবং বাড়িঘরে পানি ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের সব কটি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে নদীর বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।

এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৫১ দশমিক ৯৫ মিটার। আজ সন্ধ্যা ৬টায় তা বেড়ে ৫২ দশমিক ১০ মিটারে পৌঁছায়। তবে সকাল ৯টার মধ্যে তা কিছুটা কমে ৫২ দশমিক ০২ মিটারে নেমে আসে।

বিজ্ঞাপন

উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাউবোর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রাম ও চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশাচাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি বাড়তে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এখনো বাড়িঘরে পানি ওঠেনি, তবে আশঙ্কা আছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সব ক’টি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি আরও জানান, নদীর পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।

উজানের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে, নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করলে ভাঙনের আশঙ্কাও দেখা দেয়। বিগত সময়ে তিস্তায় ভাঙন ও বন্যার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি এবং জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত আগস্ট মাসে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

তিস্তা একটি আন্তঃসীমান্ত নদী হওয়ায় এর পানি ব্যবস্থাপনা জটিল। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে যেমন খরা দেখা দেয়, তেমনি বর্ষাকালে উজানের ঢলে বন্যা ও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশ একটি মহাপরিকল্পনা (কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট) গ্রহণ করেছে, যার আওতায় বহুমুখী ব্যারেজ নির্মাণ, নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান পানিবৃদ্ধির ঘটনায় তিস্তাপারের মানুষের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়লেও পাউবো জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর