Tuesday 23 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ব্রিজ রং করলেন মেসি ভক্তরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ জুন ২০২৬ ১০:৩৮

সাতক্ষীরা: রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে চোখ যায় পাশে থাকা ব্রিজ এবং বাজারের পাশে স্কুলের দেয়ালের দিকে। পুরো ব্রিজ নীল আর সাদা রং দিয়ে রাঙানো। দেখতে আর্জেন্টিনার পতাকার মতো। দেয়ালের এক পাশে আর্জেন্টিনার পতাকার রং দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় টানানো হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকা। তবে এটি মেসির দেশ নয়, মেসির ভক্তদের একটি গ্রাম। এই গ্রামের নাম হরিণখোলা। এটি সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নে অবস্থিত।

ফুটবল বিশ্বকাপ বা বড় কোনো টুর্নামেন্ট এলেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের সাথে বাংলাদেশের ভক্তদেরও এমন কিছু উন্মাদনা চোখে পড়ে। যেগুলোর দৃশ্য ফেসবুক পেজে দ্রুতগতিতে ঝড় তোলে।

বিজ্ঞাপন

তারই এক উদাহরণ সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নে হরিণখোলা গ্রামে। এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ আর্জেন্টিনা দল ও মেসিকে ভালোবাসেন। তবে শুধু মেসিকে নয়, এই এলাকার মানুষ ব্রাজিল, ফ্রান্স ও জার্মানির দলকে ও ভালোবাসেন। দলের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে, এই গ্রামের মানুষজন আর্জেন্টিনা দলটির পতাকার রঙের সাথে রং মিলিয়ে রং করেছেন পুরো ব্রিজ ও দেয়াল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হরিণখোলা গ্রামের কিশোর-যুবক থেকে শুরু করে বয়স্করা পর্যন্ত ফুটবল খেলা প্রেমী। এই গ্রামের ৯০% মানুষ আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসেন এবং বাকি ১০% মানুষ অন্যান্য দলকে ভালোবাসেন। এর মধ্যে ২% জার্মানিকে ভালোবাসে এবং ৫% ব্রাজিল, ফ্রান্সকে, ৩% তবে এই গ্রামের বেশির ভাগ যুবক-যুবতীরা মেসিকে বেশি ভালোবাসেন। তাদের দলের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে গ্রামের মোড়ে মোড়ে টানানো হয়েছে আর্জেন্টিনা দলের পতাকা। তাদের মধ্যে আর্জেন্টিনা দলকে যারা বেশি ভালোবাসেন হীরা তরফদার, দেবেন সরকার, চয়ন সরকার, হরিস মন্ডল, হৃদয় সরকার, নবদ্বীপ সরকার, হিরণ্ময় মন্ডল, ধৃতি মন্ডল, তাদের হাত খরচের টাকা দিয়ে নেওয়া হয় এই উদ্যোগ।

আর্জেন্টিনা সমর্থক ধৃতি মন্ডল বলেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনার মেসিকে ভালোবাসি। যখন অনেক ছোট তখন তার খেলা দেখছি। তখন থেকে তার দলকে আমরা সাপোর্ট করি। গত বিশ্বকাপে মেসি কাপ নিয়েছেন। সেই জায়গা থেকে এই বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য আমরা কয়েকজন বন্ধুরা মিলে এই আয়োজন করেছি। আমরা গ্রামবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ব্রিজ এবং স্কুলের দেয়ালে আর্জেন্টিনার পতাকার রং করেছি, পুরো জায়গা জুড়ে। আমাদের গ্রামে সবাই আর্জেন্টিনার মেসির ভক্ত। সেই জায়গা থেকে গ্রামের সবাই আমাদেরকে এই আয়োজন করাতে সহযোগিতা করেছেন।’

ব্রাজিলের সাপোর্টার মিঠুন বলেন, ‘আমরা গুটি কয়েক জন ব্রাজিলের সাপোর্ট করি সেই প্রথম থেকে। যদি ও মেসির এটা শেষ বিশ্বকাপ তবে আমাদের গ্রামের মেসির ভক্ত বেশি। তাই তারা সবাই মিলে এই আয়োজন করেছে। আমরা ব্রাজিল সাপোর্টাররা এই আয়োজনের সাধুবাদ জানাই।’

জার্মানির সাপোর্টার মিহির সরকারও একই কথা বলেন, ‘আমি জার্মানি সাপোর্ট করলে ও মনে প্রাণে মেসিকে ভালোবাসি। তাদের আয়োজনে আমি ও সঙ্গে ছিলাম। জার্মানির দল করে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে থেকে এই আয়োজন সফল করতে পারায় তাদেরকে সাধুবাদ।’

গ্রামের বাসিন্দা অরবিন্দু সরকার, বিধান সরকার, রঞ্জন মন্ডল বলেন, এই সময়টা এলে আমরা সবাই উচ্ছ্বাসের সঙ্গে এক জায়গায় বসে খেলা দেখি। তারা যখন এই উদ্যোগটা নিয়েছিলো, তখন আমরা তাতে সম্মতি দিয়েছিলাম। ফলে তারা আমাদের অনুপ্রেরণা পেয়ে সামনের দিকে এগিয়েছে। আমরা তাদের কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছি।

হরিণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চায়না রানী পাল বলেন, ‘আমরা প্রথমে তাদের এই আয়োজন করতে বাধা দিয়েছিলাম যেহেতু আমাদের প্রতিষ্ঠান সামাজিক। তারপরে গ্রামের কিছু অভিভাবক আমাদের সাথে এসে কথা বললে আমরা পরে রাজি হও। তারা আমাদেরকে বলেছিলেন যদি সমস্যা হয় তাহলে তারা সেটা মুছে দেবেন। সেই জায়গা থেকে আমরা রাজি হয়েছিলাম। যদি ও আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্ট করি, মেসিকে ভালোবাসি।’