বাগেরহাট: সুন্দরবনের ময়দাপেশা এলাকায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র গোলাগুলির ঘটনায় তিন দস্যু গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাহিনীটির প্রধান রবিউল ইসলামকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং পলাতক দস্যুদের আটকে অভিযান এখনও চলছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন তিন দস্যু গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘গত ২৫ জুন রাতে সুন্দরবনের গহীনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ডাকাতদল দুলাভাই বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে রাতব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।’
কোস্ট গার্ড জানায়, বোটে অবস্থানরত দস্যুরা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অতর্কিত গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও ডাকাতদের বোট লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি ছোড়েন। এতে তিন দস্যুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং বাহিনীর পলাতক দস্যুদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। বর্তমানে অভিযানের এলাকা কোস্ট গার্ডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করীম বলেন, ‘শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে গুলিবিদ্ধ শওকত সরদারের মরদেহ কোস্ট গার্ড হাসপাতালটিতে নিয়ে আসে। তিনি মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত এজাহার সরদারের ছেলে। অপর এক গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ রবিউল ইসলাম দুলাভাই বাহিনীর প্রধান। তিনি কয়রার মহেশ্বরীপুর এলাকার মৃত মানিক গাজীর ছেলে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটের ১১-১২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিয়ে প্রিজন সেলে রাখা হয়েছে।
কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ‘নিহত শওকত সরদার এলাকায় শাকাত সরদার নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি দুলাভাই বাহিনীর সদস্য এবং আজাহারের চাচা। আর আহত রবিউল ইসলাম সুন্দরবনের বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর প্রধান ‘
পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ. জেড. এম. হাসানুর রহমান বলেন, ‘ময়দাপেশা এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান চলছিল। তবে অভিযানে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে বন বিভাগের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।’