Friday 26 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

লক্ষ্মীপুরে মা ও ৩ মেয়েকে খুনের ঘটনায় মামলা, নেপথ্যের কারণ খুঁজছে পুলিশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৬ জুন ২০২৬ ১৯:১৮

রায়পুর থানা।ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে নিহত শাহীনুর বেগমের ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় গণপিটুনিতে নিহত মূল ঘাতক অন্তর মজুমদার ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার নেপথ্যের কারণ ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

সিফাত বলেন, ‘ঘটনাটি টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকতে পারে। কারণ বাড়ির মালিক বাসায় না থাকলে সব ভাড়াটিয়ারা আম্মুর কাছেই ভাড়ার টাকা জমা দিতেন, পরে বাড়িওয়ালা এসে তা নিয়ে যেতেন। মূলত আম্মুই এই বাসার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন।’

বিজ্ঞাপন

ঘাতক অন্তরের বিষয়ে সিফাত আরও জানান, প্রায় আট মাস আগে এই বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর অন্তরকে আর কখনও এই এলাকায় বা তাদের বাসায় আসতে দেখা যায়নি।

মামলার বিষয় নিশ্চিত করে রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ‘ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভা এলাকায় ধানহাটা নদীর পাড়ের সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচ তলা ভবনের নিচতলার বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ড চলাকালে ভেতর থেকে চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে ঘাতককে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা বেগম রানি। তিনি বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে থেকে বাসার প্রধান গেটটি আটকে দেন। এতে ঘাতক অন্তর মজুমদার ভেতরেই আটকে পড়ে।

এদিকে আটকে পড়া ঘাতক অন্তর ছাদ দিয়ে পাশের ভবনে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় জনতা চারদিক থেকে ধাওয়া দিয়ে তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঘাতক অন্তর নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে।

 

 

সারাবাংলা/এসআর/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর