নোয়াখালী: ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু এবং পাঁচ বছর বয়সি কন্যা আরওয়া ইসলাম আরিশা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ছেলে আমির হোসেন অয়ন।
শুক্রবার (২৬ জুন) ইতালির স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৮টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে নিহত বাবুলের পরিবার জানিয়েছে। এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নোয়াখালীতে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত প্রায় ৮টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাবুলের ফ্ল্যাটে ঢুকে তাকে, তার স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় বাইরে থেকে বাসায় ফিরে ছেলে আমির হোসেন অয়ন ঘটনাটি টের পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। অয়নের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অয়নকে ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে।
নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
স্বজনেরা জানান, জীবিকার সন্ধানে ২০১০ সালে ফুফাতো বোনের স্বামী আমিন উল্লাহর হাত ধরে ইতালিতে যান বাবুল। প্রবাসে যাওয়ার আগে তিনি একই ইউনিয়নের মমতাজ বেগম আরজুকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। পরে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ইতালিতেই বসবাস শুরু করেন।
নিহত কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে আমার ছেলে দেশে এলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে জানিয়েছিলাম।’
তিনি আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত জড়িত থাকতে পারে নিহত বাবুলের বন্ধু একই গ্রামের প্রবাসী শাহাদত।
নিহতদের পরিবার ও স্বজনেরা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, রহস্য উদ্ঘাটন ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। একইসঙ্গে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুল হাকীম নিশ্চিত করেন, তৎকালীন সময়ে ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে হত্যার হুমকির বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছিল।