Wednesday 14 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মা-মেয়েকে হত্যার পর মরদেহ ফ্ল্যাটে রেখেই গৃহশিক্ষিকার বসবাস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:১৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: নিখোঁজের ২০ দিন পর ঢাকার কেরানীগঞ্জে গৃহশিক্ষিকার ফ্লাট থেকে মা-মেয়ের (ছাত্রী) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এমনকি, ২০দিন ধরে মরদেহ দুটি ফ্লাটে রেখেই স্বাভাবিকভাবে বসবাস করে আসছিলেন গৃহশিক্ষিকা। আর এই ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তির বাগ এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতরা হলেন- জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও রোকেয়া রহমান (৩১)। গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তারা। নিহতরা আইনজীবীর সহকারী মো. শাহীন মিয়ার স্ত্রী ও মেয়ে। গত ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও মেয়ের নিখোঁজের ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতাররা হলেন- গৃহশিক্ষিকা মীম বেগম (২৪) ও তার বড় বোন নুরজাহান বেগম ওরফে নুসরাত (৩০)।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক ইলিয়াস হোসাইন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তার, তার স্বামী হুমায়ূন ও বোনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে এ ঘটনায় করা মামলায় প্রাথমিক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মিম ও তার বোনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মিম আক্তার এবং তার বোন স্বীকার করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী এলাকায় গৃহশিক্ষিকার কাছে পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী ফাতেমা। মেয়েকে খুঁজতে বের হয়ে তার মা রোকেয়া রহমানও নিখোঁজ হন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিম ও তার বোন প্রথমে ফাতেমাকে ওড়না দিয়ে পেচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে রোকেয়া রহমানকে ফোন করে বাসায় ডাকেন মিম, বাসায় আসার পর তাকেও ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তারা মরদেহ ঘরে রেখেই স্বাভাবিক বসবাস করে আসছিল। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ওড়নাটি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় শামীম মিয়ার মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মিমের ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ফ্ল্যাটের ভেতরে খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের মরদেহ এবং বাথরুমের সানশেড থেকে তার মেয়ে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে।

সারাবাংলা/এমএইচ/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর