ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দায়িত্ব হস্তান্তরের দিন করপোরেশনের ২৬টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে ১ হাজার ২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা থাকার যে দাবি করেছেন, সে বিষয়ে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয় করপোরেশনের সাধারণ তহবিল থেকে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি (বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব গ্রহণ করেন) ডিএনসিসির সাধারণ তহবিলে ক্যাশ ব্যালেন্স ছিল ২৫ কোটি টাকা এবং ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ৬৪২ কোটি টাকার, যা আপদকালীন দায় মেটানোর জন্য সংরক্ষিত রাখা আছে।
এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম দায়িত্বকালীন ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে করপোরেশনের সাধারণ তহবিলে উল্লিখিত ক্যাশ ব্যালেন্স ছিল প্রায় ৫৯৭ কোটি টাকা। প্রশাসক হিসেবে করপোরেশনের আর্থিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এই ফিক্সড ডিপোজিট নগদায়ন না করার বিষয়ে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
প্রশাসক জানান, এই অর্থের মধ্যে চলতি মাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ১৩ কোটি টাকা সংরক্ষিত ছিল। ফলে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের জন্য কার্যত অবশিষ্ট ছিল প্রায় ১২ কোটি টাকা।
ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, সাবেক প্রশাসকের উল্লেখ করা মোট অর্থের বড় একটি অংশ করপোরেশনের বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিল, যেমন- জামানত তহবিল, পেনশন তহবিল, শিক্ষা তহবিল, জিপিএফ (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড) ইত্যাদি খাতে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রক্ষিত রয়েছে। এসব তহবিলের অর্থ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত থাকে এবং তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বা ঠিকাদারদের বিল পরিশোধে ব্যবহার করা হয় না।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, করপোরেশনের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে সঠিক তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা জরুরি। তাই বিষয়টি পরিষ্কার করতে এ ব্যাখ্যা করা হলো।