Thursday 05 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মাতৃত্ব ও পারিবারিক কারণে কর্মক্ষেত্রে ঝরছে পেশাজীবী নারী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ মার্চ ২০২৬ ২৩:২১

মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

ঢাকা: পারিবারিক দায়িত্ব পালন ও মাতৃত্বকালীন বাস্তবতায় পেশাজীবন থেকে ছিটকে পড়ছেন দেশের একটি বড় অংশের নারী। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ নারী এই দুটি কারণেই স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে চাকরি ছাড়ছেন। কর্মক্ষেত্র থেকে ঝরে পড়া এমন দক্ষ নারীদের পুনরায় মূলধারার পেশায় ফিরিয়ে আনতে ব্র্যাক শুরু করেছে বিশেষ কর্মসূচি ‘ব্রিজ রিটার্নশিপ’।

আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই উদ্যোগের বিস্তারিত জানানো হয়।

‎মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীদের কর্মজীবন থেকে বিরতি নেওয়া এবং পুনরায় কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‎আবেদনকারীদের ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ পারিবারিক দায়িত্ব ও ৩৬ শতাংশ মাতৃত্বকালীন সময়কে চাকরি ছাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত কারণ (১৮ দশমিক ৮ শতাংশ), উচ্চশিক্ষার জন্য (১৪ দশমিক ৪ শতাংশ), বিরূপ কর্মপরিবেশ (সাড়ে ৮ শতাংশ) ও সামাজিক চাপ (৪ দশমিক ৭ শতাংশ) উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

‎অন্যদিকে, বিরতির পর কাজে ফেরার ক্ষেত্রে তাদের মূল অনুপ্রেরণা ছিল ক্যারিয়ারে উন্নতি (সাড়ে ৭৬ শতাংশ), আর্থিক স্বাধীনতা (সাড়ে ৫৬ শতাংশ), নিজস্ব পরিচয় তৈরি (৬২ দশমিক ২ শতাংশ), আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি (৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং পরিবারের জন্য অবদান রাখা (৪২ দশমিক ৭ শতাংশ)।

‎এবারের আবেদনকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্র থেকে ৬ বছরের বেশি বিরতি ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ নারীর। সবচেয়ে বেশি ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ আবেদনকারীর ১ থেকে ২ বছরের বিরতি ছিল। অন্যদিকে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ আবেদনকারীর অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরের বেশি। ৫৮ শতাংশ আবেদনকারীর অভিজ্ঞতা ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের চিফ পিপল অ্যান্ড কালচার অফিসার মৌটুসী কবীর। তিনি বলেন, ‘ব্রিজ রিটার্নশিপের মূল লক্ষ্য হলো যোগ্য নারীদের কর্মক্ষেত্রে পুনঃপ্রবেশে সহায়তা করা। এই উদ্যোগ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

উল্লেখ্য, গত বছর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে প্রথমবার ১৫ জন নারীকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২৪ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা গবেষণা ও প্রকল্প তত্ত্বাবধানসহ বিভিন্ন কারিগরি কাজে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখার সুযোগ পাবেন।

সারাবাংলা/এনএল/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর