ঢাকা: রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় দুই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর পর মরদেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকালে সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নিলুফার ইয়াসমিন (২৯) ও শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ডেমরা বাঁশেরপুল এলাকার একটি বাসা থেকে নাসরিন আক্তার (২৬) নামে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদের মধ্যে নিলুফার ইয়াসমিন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানার বিরিছিল গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী আনোয়ার হোসেন বর্তমানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে (জিএমপি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন।
সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা জানান, ১৪ বছর আগে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে নিলুফারের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে ও সাত বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। কিছুদিন ধরে দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ মসজিদের বিপরীত পাশের একটি বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে সন্তানদের নিয়ে ভাড়া থাকতেন নিলুফার। বড় ছেলে আরাফাত একটি আবাসিক মাদরাসায় পড়াশোনা করে। স্বামী আনোয়ার হোসেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে (জিএমপি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন।
এসআই আরও জানান, নিলুফার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড় ছেলে মাদরাসার পড়াশোনা ঠিকমতো করতো না। এ ছাড়া, আর্থিক টানাপোড়েনসহ পারিবারিক বিভিন্ন কারণে নিলুফা মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। আর এ থেকে ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে কোনো এক সময়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ডেমরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শায়খ খসরু জানান, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ডেমরা বাঁশেরপুলে নতুনপাড়ার বাসা থেকে নাসরিন আক্তারের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর পর সুরতহাল প্রতিবেদন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
এসআই আরও জানান, বাঁশেরপুলের ওই বাসায় প্রাইভেটকারচালক স্বামী মো. পলাশের সঙ্গে থাকতেন। রাতে ঘরের জানানলার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁসি দেয় নাসরিন আক্তার। দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় নিজরাই মরদেহ নামিয়ে নিচে রাখে। এর পর থানায় খবর দেয়। অন্য কোন ঘটনা আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া স্বামী পলাশকে থানায় এনে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।
নাসরিন আক্তারের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার রাজাপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামে। বাবার নাম ইকবাল হোসেন।