Saturday 31 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঢাকার যানজট নিরসনে ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:২১

সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও অংশীজনদের নিয়ে ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘ঢাকা মহানগরীতে চলমান ও গৃহীতব্য মেগা প্রকল্পসমূহের নির্মাণকাজের কারণে উদ্ভূত যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও অংশীজনদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা সিটি ও এর আশপাশের সব উন্নয়নমূলক কাজ যাতে সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই সমন্বয় সভা করা হয়েছে। এক সংস্থা কাজ শেষ করার পরপরই আরেক সংস্থা একই স্থানে যাতে পুনরায় খোঁড়াখুঁড়ি না করে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া, ভোগান্তি কমানো এবং জনস্বার্থে সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করে। আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে একই সময়ে ইউটিলিটি শিফটিং বা অন্যান্য নির্মাণকাজ যাতে একসঙ্গে সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

চলমান এমআরটি, সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও ডেসাসহ অন্যান্য সংস্থার মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ তদারকির জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সার্বিক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য প্রতি ১৫ দিন পরপর এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা পর্যায়ে সাব-কমিটির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এবং যানজট নিরসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এর ফলে যান চলাচলে দৃশ্যমান শৃঙ্খলা আসছে এবং নগরবাসী এর সুফল পাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউটিলিটি শিফটিংয়ের কাজ পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ওপর ট্রাফিক চাপ কমাতে গাবতলী, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড শহরের বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ ও সার্বিক পরিকল্পনার কাজ চলছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। মূল সড়কে থ্রি-হুইলার বা ছোটো যানবাহন চলাচল শৃঙ্খলাবহির্ভূত। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে একটি নীতিমালার মধ্যে আনার প্রক্রিয়া চলছে, তবে আকস্মিকভাবে কাউকে পুরোপুরি বেকার না করে পর্যায়ক্রমে ডিসিপ্লিনে আনা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন পিলারের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে যেসব চার্জিং পয়েন্ট গড়ে উঠেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে সরকার এরইমধ্যে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে এবং অসংখ্য অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সূচি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক ও আইনি এখতিয়ার অনুযায়ী কাজ করে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে সম্ভাব্য সূচি প্রকাশ করেছে তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে সচিবদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মতামতের আলোকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে এবং সে পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিবাদী শক্তির দুষ্কৃতকারীরা ঝটিকা মিছিল কিংবা ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘গুলশান ও হাইকোর্ট-সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত ঘটনাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এরইমধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিহত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

সারাবাংলা/ইউজে/এআর