ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইসিবি চত্বরে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় সরকারের পক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা ও দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। দলটির আশা, সরকার হামলার ঘটনায় যথার্থ বিচার করার পাশাপাশি ক্ষমা চাইবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ক্ষমা চান জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা অবনতি, সন্ত্রাসী হামলা ও নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় সরকারের প্রথম কর্তব্য হলো ভিক্টিমদের কাছে ক্ষমা চাওয়া ও দুঃখ প্রকাশ করা এবং সমব্যথী হওয়া। এরপর কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া, সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় সরকারের কেউ ক্ষমা চায়নি। বরং হামলার ঘটনায় ভিক্টিমদের ক্ষুব্ধ বক্তব্য ও জনগণের অসন্তোষের বিরুদ্ধে কথা বলে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে।
খোমেনী ইহসান বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট-রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় সরকারের উচিত ক্ষমা প্রার্থনা ও দুঃখ প্রকাশ করা। তারা যদি না করে তাহলে রাজনৈতিক দল হিসেবে ক্ষমা প্রার্থনা ও দুঃখ প্রকাশ করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা দলীয়ভাবে ও সরকারের পক্ষে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং হামলার ঘটনায় বিচার দাবি করছি। আমরা আশা করছি সরকার ক্ষমা চাওয়ার সংস্কৃতি রপ্ত করবে এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য লজ্জিত হতে শিখবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলার ঘটনার কঠোর নিন্দা করেন খোমেনী ইহসান। তিনি বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি উর্দুভাষী মুহাজিরদের জমিতে স্থাপিত। মুক্তিযুদ্ধের পর এ জমি মুজিব সরকার কেড়ে নিয়েছিল। মিরপুর এলাকার মুহাজিরদের অন্য সব জমি ভূমিদস্যুরা দখল করেছে। তারা রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিও একই কায়দায় দখল করে নিতে চাইছে। কিন্তু ভূমিদস্যুরা জানে না, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা ও দখল মানবতা বিরোধী অপরাধ। ইসারায়েল গাজার স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে হামলা করে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে নিন্দিত হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী জুলুমের শিকার দল হওয়া সত্ত্বেও বিএনপির নেতাকর্মীদের একই অপরাধে জড়িয়ে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি আরও বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় বিএনপির নারী সাংসদ ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির জড়িত থাকার ঘটনা আমাদের হতবাক করেছে।তিনি একটি ত্যাগী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তিনি শহীদ সাইদুর রহমান নিউটনের স্ত্রী ও হাসিনার মিথ্যা মামলায় নির্যাতিত হয়ে কারাগার শাহাদাতবরণকারী নাসির উদ্দিন আহমদ পিন্টুর বোন। তিনি কোনোভাবেই স্থানীয় ভুমিদস্যুদের লালসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন না।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা সম্পর্কে খোমেনী ইহসান বলেন, সালমানের স্টুডিওটি নিউগিনি প্রোপার্টিজে অবস্থিত। এর মালিক নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়া জুলাই বিপ্লবের গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন। একজন মৌলভী হয়েও তার বিপুল ধনসম্পদের মালিক হয়ে যাওয়ার মূলে রয়েছেন ক্যান্টনমেন্ট থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আব্বাস। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার জোরে নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়া সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জমিও দখল করেছিলেন। সেই দখলকে ঘিরে দ্বন্দ্বের জেরে শনিবার রাতের ঘটনা ঘটে। ওই সময় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও হামলার শিকার হলেও এর সঙ্গে চাঁদাবাজির সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা বিএনপি সরকারের জন্য ওয়েকআপ কল। সরকারকে বুঝতে হবে ভূমিদস্যুতা বাংলাদেশের প্রধান সামাজিক সঙ্কট। শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় ভূমিদস্যুতা মহামারিতে রূপ নিয়েছিল। তাই চব্বিশের ৫ আগস্টের পর প্রবল জনপ্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তী সরকার ভূমিদস্যুতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারতো বটে বর্তমান বিএনপি সরকারও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সহায়তায় আইন হাতে তুলে নিয়ে পাল্টা দখলের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। সরকারের উচিত এসব ঘটনা নিয়ে খারাপ কিছু ঘটার জন্য অপেক্ষা না করে ভূমিদস্যুতা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ, সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব মো. আরিফুল ইসলাম ও মো. শফিকু রহমান প্রমুখ।