ঢাকা: আগামী জানুয়ারি মাসের অধিবেশনেই জাতীয় সংসদে বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধনের বিল পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন এ সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মৌলিক বিধানে পরিবর্তন আসায় সংশোধনী পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সইয়ের আগেই দেশজুড়ে গণভোটের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে মতামত গ্রহণ সংক্রান্ত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দেশের সার্বিক গণতান্ত্রিক রূপরেখা ও সংবিধানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপন করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিল প্রস্তুত করা হবে। আইন পাস ও সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সংসদীয় রুলস অব প্রসিডিউর অনুসরণ করা হবে এবং বিলের ওপর আনীত প্রস্তাব, আলোচনা ও বিরোধিতা শেষে তা পাস হলে চূড়ান্ত রূপ পাবে।
সংবিধানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অনুচ্ছেদে গণভোটের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর ধরে যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির জন্য সংগ্রাম চালানো হয়েছে, সেটিকে স্থায়ী ভিত্তি দিতে হবে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৮-এর সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান রয়েছে, ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার চাইলেই তা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বাতিল বা পরিবর্তন করতে না পারে সেজন্য সেখানে গণভোটের শর্ত যুক্ত করার সর্বসম্মত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও এই প্রস্তাব এসেছে। এর ফলে মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রগুলোতে গণভোট আয়োজন করা সাংবিধানিক বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে বলবৎ হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক পক্ষকে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো বিভেদ নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের ওপর ভিত্তি করেই সংবিধান সংশোধনের এই ঐতিহাসিক কাজটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের কারণে গণভোটের বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে, সেখানে জনগণের সরাসরি মতামত নিয়েই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।