চট্টগ্রাম: দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার প্রায় শতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় মির্জাখীল দরবার শরিফের খানকাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
দরবার শরীফের মেঝ সাহেবজাদা মোহাম্মদ মছুদুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, হযরত শাহ জাহাঁগীর শেখুল আরেফীন (ক.), হযরত শাহ জাহাঁগীর ফখরুল আরেফীন (ক.), হযরত শাহ জাহাঁগীর শমসুল আরেফীন (ক.) এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান সাজ্জাদানশীন হযরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন (ক.) এর তত্ত্বাবধানে তার জানশিন (উত্তরাধিকারী) হযরত ইমামুল আরেফীন ড. মাওলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান ঈদের নামাজে ইমামতি করেন।
জানা যায়, মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা দীর্ঘ আড়াই শ বছর ধরে হানাফি মাজহাবের নিয়ম অনুসরণ করে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো দেশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রোজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও চান্দ্রমাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ধর্মীয় অনুশাসন পালন করে আসছেন।
মির্জাখীল দরবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই’শ বছর আগে উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মির্জাখীল গ্রামে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীর (ক.) হানাফি মাজহাবের নিয়ম অনুসরণ করে পৃথিবীর যেকোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে রোজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও চান্দ্রমাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ধর্মীয় অনুশাসন পালন করার ফতোয়া জারি করেন। এরপর থেকে ওই দরবারের অনুসারীরা নিয়মটি অনুসরণ করে ধর্মীয় অনুশাসন পালন করে আসছেন।
মির্জাখীল গ্রাম ছাড়াও সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া, সোনাকানিয়া, ছোটহাতিয়া, আছারতলি, সাইরতলি, এওচিয়া, খাগরিয়া, ছদাহা, গাটিয়াডেঙ্গা, বাজালিয়া; লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, চরম্বা ও চুনতি; বাঁশখালী উপজেলার জালিয়াপাড়া, ছনুয়া, মক্ষিরচর, চাম্বল, শেখেরখীল, ডেংরা, তৈলারদ্বীপ ও কালীপুর; পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, বাহুলী, ভেল্লাপাড়া, সীতাকুণ্ড উপজেলার মাহমুদাবাদ, বারৈয়াঢালা, বাঁশবাড়িয়া, সলিমপুর, সহ শতাধিক গ্রামের বহুসংখ্যক অনুসারী ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।