চবি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান। তিনি মেরিন সায়েন্স বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার ব্যবহৃত চশমা ভেঙে ফেলা হয়।
জানা যায়, ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে ১ নম্বর গেট পর্যন্ত নির্ধারিত ভাড়া ৭ টাকা। ৭ টাকার ভাড়া ১০ টাকা দাবি করলে এর প্রতিবাদ করেন মেহেদী হাসান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসান নামের এক সিএনজি চালক তার ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে জিরো পয়েন্ট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অবরোধ চলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা অবরোধ করলে প্রশাসন এসে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়। অপরাধীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। ’
চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি জানান। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিবহণ সংকট নিরসনে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
চবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক মোস্তফা কামাল হোসেন জানান, আহত শিক্ষার্থীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, ‘যে সিএনজিচালক শিক্ষার্থীকে আহত করেছে, তাকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সবধরনের সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহণ চক্রাকারভাবে চালু রাখা হবে।’
এদিকে, মেহেদীকে মারধরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বেশকিছু দাবিদাওয়া উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হচ্ছে— রাতের মধ্যে হামলাকারীকে গ্রেফতার, অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট সড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ রাখা, বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি চক্রাকার বাস চালু রাখা এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে ১ নম্বর গেটে একটি পুলিশ বক্স স্থাপন।