কুড়িগ্রাম: রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় ডিসেম্বর- ২০২৫ মাসজুড়ে পরিচালিত সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করে বিজিবি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি’র কার্যক্রমে তুলে ধরতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন-২২ বিজিবি প্রধান দফতরে রংপুর রিজিয়নের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক পিএসসি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, ডিসেম্বর জুড়ে রংপুর রিজিয়নের সেক্টর ও অধীনস্ত ব্যাটালিয়নগুলোর অভিযানে ৭০ জন আসামিসহ আনুমানিক ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৯৩ হাজার ৪৮৯ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
লেফটেনেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক জানান, জব্দ মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ফেন্সিডিল, বিদেশি মদ, ভারতীয় ইয়াবা, ভারতীয় গাঁজা, বিভিন্ন প্রকার নেশাজাতীয় সিরাপ (মনোগোল্ড কফ সিরাপ, তুস্কোরেস, আরসি কাপ-৩ উইন সিরাপ), স্কাফ সিরাপ, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নেশাজাতীয় ইনজেকশন, হেরোইন এবং অন্যান্য নেশাজাতীয় ট্যাবলেট।
তিনি জানান, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের অভিযানে ২৯ রাউন্ড গুলিসহ ৬টি বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়েছিল, যা সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমনে বিজিবির কার্যকর উপস্থিতির প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিনি আরও জানান, চোরাচালান বিরোধী অভিযানে মোট ১৯৭টি গবাদিপশু উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে গরু ১৬৪টি এবং মহিষ ৩৩টি। পাশাপাশি জিরা, মোটরসাইকেল, বিভিন্ন প্রকার কসমেটিকস, কীটনাশক, কাপড়, বাইসাইকেল ও কষ্টিপাথরসহ নানা ধরনের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
‘মানব পাচার প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিসেম্বর মাসে পাচারের ঝুঁকিতে থাকা ৩ জন নারীসহ মোট ১৫ জন ব্যক্তিকে উদ্ধার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ কার্যক্রম বিজিবির মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’
এ ছাড়া জাল টাকা পাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন বিজিবি ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত টহল, বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন এবং সমন্বিত আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ডিসেম্বর-২০২৫ মাসে বিজিবি সহস্রাধিক দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করে। পাশাপাশি ১ হাজার ১০০ পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। সীমান্ত এলাকায় জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন পর্যায়ে মোট আড়াই হাজারেরও বেশি সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হয়েছে।’
এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বিজিবি রংপুর রিজিয়ন সীমান্ত নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণে পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি জানান।