ঢাকা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক জোট গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হোসাইন ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পেশাগত দায়িত্বে নিয়োজিত একাধিক সাংবাদিক আহত হয়েছেন-যা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক, নিন্দনীয় এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা লক্ষ্য করেছি, দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ্য করে বলা হয়, হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দৈনিক আমার দেশের জবি প্রতিনিধি লিমন ইসলাম এবং ডেইলি স্টারের জবি প্রতিনিধি রাকিব মাদবর বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে লিমন ইসলামের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত ও শঙ্কিত করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এ ধরনের হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত।
বিবৃতিতে তারা ৫ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো হামলার ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে; জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে; আহত সাংবাদিকদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত ও প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে; ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিবৃতিতে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হবে।