ঢাকা: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এবার খতনা করাতে গিয়ে আতিকুর রহমান (৯) নামের এক শিশুর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় খলিলুর রহমান নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সনদ ছাড়াই ঢাকা উদ্যান এলাকায় ফার্মেসিতে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের খতনা করে আসছিলেন এবং এলাকায় ‘খলিল ডাক্তার’ নামে পরিচিত তিনি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বিষয়টি সারাবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর দাদার দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ওষুধের দোকানিকে আটক করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করছি রাতের ভেতরেই মামলার কাজ সম্পন্ন হবে।
এবিষয়ে শিশু আতিকুরের মা সারাবাংলাকে বলেন, মুসলমানি করানোর পর ব্যান্ডেজ করা ছিল। আমাদের জানিয়েছিল একটু কেটে গেছে। কিন্তু পরে ব্যান্ডেজ খুলে দেখি পুরুষাঙ্গের মাথা নাই। গতকাল আমরা অভিযোগ জানিয়েছিলাম থানায়। সেই প্রেক্ষিতে খলিল ডাক্তারকে আজ সন্ধ্যায় পুলিশ থানায় ধরে এনেছে। আজ মামলা হচ্ছে। পুলিশ বলেছে রাতেই মামলা হয়ে যাবে।
এদিকে পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে শিশুটির দাদা বলেন, ঈদের পরদিন গত ২২ মার্চ পরিবার তার নাতিকে খতনা করাতে খলিলের ফার্মেসিতে নিয়ে যায়। খতনা করানোর সময় অবহেলায় খলিল তার নাতির পুরুষাঙ্গের সামনের অংশ কেটে ফেলেন। ঘটনার পরপরই খলিল শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর রক্তপাত বন্ধ হলেও এ ঘটনায় শিশুটির স্বাভাবিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে খলিলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের পালটা হুমকি-ধামকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
এদিকে, খলিল মেডিকেল নামের ফার্মেসিটির মালিক খলিল চিকিৎসক নন, তিনি মূলত ফার্মাসিস্ট। তবে তার ফার্মেসির সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সুন্নতে খতনা করানো হয়।
অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খলিল দাবি করেন, খতনার সময় শিশুটিকে ধরে রাখা তার পরিবারেরই একজন ছেড়ে দিয়েছিল। এতে শিশুটি লাফ দিলে ওই ঘটনা ঘটে।