ঢাকা: টেন্ডার নিয়ে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর হামলা চালায়। আর এই হামলা পরিচালনা করা হয় বিদেশ থেকে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ২টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘দুই প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ভয় দেখাতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচজন হলেন- শরিফুল আলম ওরফে করিম, আমিনুল ইসলাম ওরফে কালু, সাজ্জাদ ওরফে বদি, সালাউদ্দিন এবং আরিফুজ্জামান।’
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুইটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে তারা ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটায়। প্রাথমিক তদন্তে তাদের সরাসরি কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। টেন্ডারটি ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বী দুইটি গ্রুপ হলো রুবেল গ্রুপ ও মোনায়েম গ্রুপ। এই প্রতিযোগিতার জেরেই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর ভুক্তভোগীর সঙ্গে হাসপাতালে কথা বলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় র্যাব। সেই সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত রুবেল এই হামলার নির্দেশ দেন এবং তার হয়ে দেশে কাজটি বাস্তবায়ন করেন গ্রেফতার শরিফুল ইসলাম করিম।’
বিদেশে বসে হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অপরাধীরা দেশের বাইরে থাকলেও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব। এ ধরনের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
এ বিষয়ে র্যাব-১ এর অধিনায়ক মোনায়েম হালিম খান বলেন, ‘মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলা সংগঠিত করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম করিমের বিরুদ্ধে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনের দুটি মামলা রয়েছে। আমিনুল ইসলাম কালুর বিরুদ্ধে বনানী থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা এবং সাজ্জাদ বদির বিরুদ্ধে দারুসসালাম থানায় মাদক মামলা রয়েছে।’