ঢাকা: মা-কে কোকের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নগদ টাকা, সোনার গহনা ও কাপড়-চোপড় এবং গভীর আকর্ষণ অনুভব করা একাদশ শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী মানহা হাসিব রাইসাকে (১৭) নিয়ে ঘর ছাড়ে দিপীকা (১৭)। এমনকি সঙ্গে নিয়ে যায় ছোট বোন দিয়াকেও (১৩)। এরপর ঢাকা উদ্যান এলাকার একটি ভাড়া বাসায় উঠে সংসার শুরু করেন তারা।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোর রাত ৩টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকার একটি বাসা থেকে ৩ জনকে উদ্ধারের পর জানা যায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার (২ জুন) মো. হাসিবুর রহমান রনি পল্লবী থানায় এসে জানান, তার মেয়ে মানহা হাসিব রাইসা (১৭) সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তার বান্ধবী দিপীকা (১৭) ও দিপীকার ছোট বোন দিয়াকে (১৩) নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এ বিষয়ে ২ জুন পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একইদিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দিপীকার পরিবারের পক্ষ থেকেও দুটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
তিনি বলেন, ঘটনা সংক্রান্তে পল্লবী থানা পুলিশ অনুসন্ধান পরিচালনা করে শুক্রবার (৫ জুন) রাত ৩টা ৫ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান এলাকার একটি বাসা থেকে ৩ জনকেই উদ্ধার করে।
ডিসি নাসিরুদ্দিন বলেন, আগারগাঁও তালতলা কলোনি সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিপীকা (বিজ্ঞান বিভাগ) ও মানহা হাসিব রাইসা (ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ) একে অপরের প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করতো। উভয় পরিবার এ বিষয়ে অবগত ছিল এবং একপর্যায়ে তাদের দেখা-সাক্ষাৎ ও যোগাযোগে বাধা দিত। এ পরিস্থিতিতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দিপীকা গত সোমবার (১ জুন) দুপুরে তার মাকে কোকের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও কাপড়-চোপড়সহ তার ছোট বোন দিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে মানহাকে নিয়ে সিএনজি যোগে মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান এলাকার একটি ভাড়া বাসায় উঠে বসবাস শুরু করে। উদ্ধারকৃত ৩ কিশোরীকে তাদের স্ব-স্ব পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।