রাজবাড়ী: ‘আজকে বাস থেকে না নামলে নির্ঘাত মারা যেতাম। অনেক বড় একটি বিপদ থেকে বাঁচলাম। আল্লাহর দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া।’
শুক্রবার (৫ জুন) এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পদ্মায় ডুবে যাওয়া এসবি সুপার ডিলাক্সের যাত্রী হিরোক আহম্মেদ। তিনি কুষ্টিয়া থেকে ২ বাচ্চা ও তার স্ত্রীকে নিয়ে এসবি ওই বাসে উঠেছিলেন ঢাকা নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশ্যে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর দরবারে লাখো লাখো শুকরিয়া, আমরা সমস্ত যাত্রী প্রশাসনের সহায়তায় বাস ফেরীতে ওঠার আগেই নেমে গিয়েছিলাম। আমরা বাসে ৩৮ জন যাত্রী ছিলাম। আমরা সবাই বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর ফেরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। বাসে চালক ও চালকের সহকারী (হেলপার) ছিল । বাস ফেরীতে ওঠার যে গতি, সেই গতির থেকে আমার কাছে মনে হয়েছিল এই বাসটি তার থেকে বেশি গতিতে ফেরিতে উঠছিল। ওই গতি দেখে হেল্পার বাস থেকে জাম করে নেমে পড়ে। হেলপার ৫ থেকে ৬ মিটার মাটির সঙ্গে পিছলিয়ে গেছে এবং বাস সরাসরি ফেরির পন্টুনের র্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। আমার ব্যাগ বাসের মধ্যেই ছিল। বাস পড়ে গেলে ভেতর থেকে ব্যাগ বের হয়ে নদীতে ভেসে উঠেছিল।’
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন থেকে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, বাসে কোনো যাত্রী ছিল না তাই হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যাত্রীদের মালামালগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা এখন যাচাই-বাছাই করে যাত্রীদের মালামালগুলো বুঝিয়ে দেব। সবার প্রতি অনুরোধ আপনারা সচেতন থাকবেন। ফেরিতে ওঠার সময় বাস থেকে নেমে যাবেন এবং লঞ্চে যেন অতিরিক্ত যাত্রী না ওঠে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা সোহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরি ঘাটে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় বাসের ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারান।