Thursday 21 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজবাড়ীতে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ মে ২০২৬ ০০:১১ | আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ০০:১২

রাজবাড়ীতে কোরবানির পশুর হাট। ছবি: সারাবাংলা

রাজবাড়ী: দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজবাড়ী পৌর পশুর হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা । কোরবানির পশু কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা দুপুর থেকে হাটে ভিড় করছেন। পশুর দাম নিয়ে বিক্রেতাদের কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও ক্রেতারা বাজেটের মধ্যে পছন্দের গরু কিনতে পারার কথা জানিয়েছেন। মাঝারি আকারের গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। হাটগুলোতে নিরাপত্তার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অসুস্থ গবাদি পশুর চিকিৎসায় হাটগুলোতে রয়েছে মেডিকেল টিম। জেলায় এবার ৩২টি স্থানে কুরবানির পশু কেনাবেচার হাট বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি স্থায়ী ও ১৫টি অস্থায়ী হাট রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জেলায় ৮ হাজার ৮৭২ জন খামারির মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার গবাদিপশু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছে। চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ৫০ হাজার ২৮৪টি। উর্দ্বৃত্ত থাকবে ১৮ হাজার ৮২৭টি।

আরও জানা গেছে, এ বছর কোরবানি যোগ্য ষাড় গরু প্রস্তুত হয়েছে ২২ হাজার ৫টি, বলদ ২হাজার ৮৫৪টি, গাভী ৫হাজার ১২১টি, মহিষ ২৩৬টি, ছাগল ৩৮ হাজার ৪১৪টি, ভেড়া ৪১৮টি ও অন্যান্য পশু ৬৩টি প্রস্তুত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১শে মে) বিকেলে রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর পৌর পশুরহাট ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাক, নসিমন, ভটভটিসহ নানা রকম যানবাহনে ব্যবসায়ী ও খামারিরা ট্রাক, মিনিট্রাক, নছিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া নিয়ে এসেছেন।

বাগমারা থেকে ইয়াসমিন নামের এক ব্যাক্তি প্রায় ৩২ থেকে ৩৫ কেজি ওজনের রাম ছাগল নিয়ে এসেছিলেন। তিনি জানান, আমার এই ছাগলটি ২৬ হাজার টাকা দাম চাচ্ছি ২২ হাজার টাকা দাম হয়েছে। আর কিছু হলে বিক্রি করে দিব।

কালুখালী থেকে মিজান ব্যাপারী ৫ টা গরু নিয়ে এসেছিলেন এই হাঁটে। তিনি বলেন, ‘ক্রেতা অনেক কম আজ। সবাই শুধু দাম শোনে। বেচাকেনা নাই বলতেই চলে। আড়াই লাখ টাকার গরু ২লাখ টাকা দাম বলে। ক্রেতাদের মাঝাড়ি গরুর ওপর চাহিদা বেশি।’

দুই ভাই বোন রওশন ও জোসনা বেগম এসেছিলেন গরু কিনতে। তারা বলেন, ‘বড় গরুর একটু দাম কম হলেও ছোট ও মাঝারি গরুর দাম অনেক বেশি। হাঁটে যখন এসেছি গরু দেখে পছন্দ হলে দাম দরে মিললে গরু কিনেই বাড়ি ফিরব ইনশাআল্লাহ।’

শহরের বিনোদপুর পৌর হাট মালিক পক্ষের খাইরুল ইসলাম খাইরু বলেন,‎ ‘দূর-দূরান্ত থেকে আগত কোরবানি ক্রেতা ও গরু-ছাগল কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই বেচাকেনা হচ্ছে। রোববার থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এখানে প্রতিদিন হাট বসবে। অসুস্থ গরুকে চিকিৎসা দিতে মেডিকেল টিম রয়েছে। জাল টাকা শনাক্ত করণেও টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খুব স্বল্প মূল্যে খাজনা আদায় করা হচ্ছে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘গরুর হাটে আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে। হাটে দেশি গরুর সংখ্যা বেশি। অসুস্থ গরুকে চিকিৎসা দিতে মেডিকেল টিম রয়েছে। জাল টাকা শনাক্ত করণেও টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’ এ বছর খামারিরা দাম ভালো পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘পশুবাহী ট্রাক কোন হাটে যাওয়ার সময় কেও আটকাবে না। কোরবানির পশুর হাটে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জেলা পুলিশ প্রতিটি হাটে পুলিশ মোতায়েন করেছে। নিয়মনীতি মেনে হাট পরিচালনা করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি হাটে নজরদারি রয়েছে। হাটে জাল টাকা শনাক্তের জন্য টিম রাখা হয়েছে।‎’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর