ঢাকা: দেড় বছর পর সাভারের আশুলিয়ার চাঞ্চল্যকর পুকুরে ভাসমান জনি হত্যা মামলার রহস্য উম্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেইসঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ এই রহস্য উম্মোচন করেন।
তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ২০২৪ এর ১২ ডিসেম্বর রাত ৮টায় আশুলিয়া থানাধীন মধুপুর উত্তরপাড়া এলাকায় হাসিবুল ইসলাম জনি (২১) কে অজ্ঞাতনামা আসামীরা মারপিট করে হত্যা করে পুকুরে মরদেহ ফেলে দেয়। ঘটনার ৪ দিন পর পুকুরে জনির অর্ধগলিত মৃতদেহ ভেসে উঠলে পুলিশ পুকুর হতে মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৮ ডিসেম্বর আশুলিয়া থানায় ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২৪ ডিসেম্বর পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে মামলাটি অধিগ্রহণ করে এবং উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মাহবুব হোসেনকে দায়িত্ব দেয়। হত্যাকাণ্ডে আসামিদের অবস্থান শনাক্তকরণ এবং গ্রেফতারে পিবিআই ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে।
পুলিশ সুপার মোর্শেদ, গ্রেফতার আসামি মো. শাহজালাল সরকার (২৮) এর দেওয়া তথ্য মতে গত ১৮ জুন আশুলিয়া থানাধীন মধুপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপর আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি শাহ জালাল সরকারকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দেয়।
তিনি বলেন, তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতার আসামি শাহ জালাল সরকার এবং মো. সাইফুল ইসলামসহ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিরা মাদক ব্যবসার বিরোধ ও ক্ষোভের জের ধরে হাসিবুল ইসলাম জনিকে হত্যা করে পুকুরে মরদেহ ফেলে দেয়। ঘটনার দিন ভিকটিম হাসিবুল ইসলাম জনি ও সঙ্গীয় বন্ধু সোহাগ ও রানা খানদ্বয় ঘটনাস্থলে মাদক সেবন ও বিক্রয় করছিল।
ওই মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতারকৃত আসামি শাহ জালাল সরকার ও মো. সাইফুল ইসলামসহ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিরা লাঠিসোটা নিয়ে এলে ভিকটিমের বন্ধু সোহাগ ও রানা খান পুকুরে ঝাপ দিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু আসামিরা ভিকটিম হাসিবুল ইসলাম জনিকে ধরে এলোপাথাড়ি মারপিট করে হত্যা করে মৃতদেহ পুকুরে ফেলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।