Monday 26 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে খুন, ঘাতক গ্রেফতার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:১৯ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:২৮

মরদেহ। প্রতীকী ছবি

ঢাকা: পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামের এক ব্যবসায়ী। নিখোঁজের তিনদিন পর লালবাগে একটি বাড়ির নিচতলার ফাঁকা জায়গায় বালিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের হাত-পা বাঁধা এবং মুখে পলিথিন প্যাঁচানো ছিল। এ ঘটনায় মাসুম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর লালবাগের বিসি দাস স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাড়ির নিচতলার ফাঁকা জায়গার বালি খুঁড়ে রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

লালবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামিল হোসেন জানান, শেখ ওয়াসিম রনি নিখোঁজের পর থানায় তার পরিবার একটি জিডি করে। তদন্তে তার সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন থাকা মাসুম নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং তার দেখানো মতে তারই বাসার নিচে ফাঁকা জায়গায় বালি খুঁড়ে রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ওসি বলেন, ‘ঘাতক মাসুম জানিয়েছে, বাসার ভেতর মাথায় ঘুষি মারার পর রনি ফ্লোরে পড়ে যান। তখনই তার হাত পা বেঁধে ফেলে এবং গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। মরদেহ গুম করার জন্যই বাসার নিচতলায় বালি খুঁড়ে সেখানে মাটিচাপা দিয়ে রাখে। মরদেহটি অনেকটাই পচে গেছে। এই ঘটনায় মাসুমকে গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। ব্যবসায়িক পাওনা ৩ লাখ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

নিহতের মেয়ে রামিসা আক্তার সোনাম জানান, তাদের বাসা যাত্রাবাড়ীর শেখদী এলাকায়। রনি জমি বেচাকেনার ব্যবসা করতেন। চকবাজারের আসিক টাওয়ারে ইমিটেশন অলংকার ব্যবসায়ী মাসুমের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। মাসুমের কাছে তিনি ৩ লাখ টাকা পেতেন।

রামিসা জানান, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার বাবা তাদের বলেছিলেন, মাসুমের কাছ থেকে পাওনা টাকার চেক আনতে যাচ্ছেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর যোগাযোগ হচ্ছিল না। ফোনে অনেক চেষ্টা করেও কোনো সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিনি আরও জানান, ওই দিন সন্ধ্যায় তার বাবাকে খুঁজতে মাকে সঙ্গে নিয়ে লালবাগে মাসুমের বাসায় যান তিনি। তখন বাসায় শুধু মাসুমের স্ত্রী ছিলেন। সেখান থেকে মুঠোফোনে মাসুমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পাওনা টাকার চেক রনিকে দিয়ে দিয়েছেন তিনি। রনি কোথায় গেছেন, সেটি তিনি আর জানেন না। এরপর তারা ওই বাসা থেকে চলে আসেন।

রামিসা বলেন, রাতে লালবাগ থানায় জিডি করেন তারা। সে সময়ও তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঘাতক মাসুম। পরবর্তী সময়েও রনিকে খুঁজতে যত ধরনের সহযোগিতা দরকার, সব তিনি তাদের সঙ্গে থেকে করছিলেন।

তিনি জানান, মাসুমের বাসার গলির একটি সিসিটিভি ফুটেজে তার বাবাকে মোটরসাইকেল চালিয়ে যেতে দেখা যায়। গলির কিছু দূরের আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে তাকে পার হয়ে যেতে দেখা যায়নি। এই দু’টি ক্যামেরার মাঝেই মাসুমের বাসা। এমনকি প্রথম ক্যামেরায় তাকে আর ফিরে আসতেও দেখা যায়নি। এরপর তাদের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাসুমকে আটক করলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর বিচার দাবি করেছে নিহত রনির পরিবার।

সারাবাংলা/এসএসআর/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর