ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ ও ক্ষুদ্র দোকান ঘিরে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ছাত্রদলের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি যাচাই করতে চার সদস্যের একটি ‘সত্যানুসন্ধান কমিটি’ গঠন করা হয়। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য ও সহকারী প্রক্টর ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী।
ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘কমিটি মিটিং করে এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করবে। একইসঙ্গে আজকের মধ্যেই কমিটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করার চেষ্টা করবে।’
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মিরাজ কোবাদ চৌধুরী। এ ছাড়া, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া সদস্য এবং এস্টেট ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) ফাতেমা বিনতে মুস্তফা সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আজ সকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত চাঁদাবাজি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ডাকসু প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্ৰহণের জন্য প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি ও ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের ‘বিতর্কিত’ ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে কিছু ডাকসু প্রতিনিধি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় চাঁদাবাজি ও দোকান উচ্ছেদের সিন্ডিকেট গঠন করেছে। এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও তারা রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে ভুয়া অভিযোগ ছড়িয়ে সহিংসতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ক্যাম্পাসের শান্তি ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আজ রাত ৮ টার মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না করলে অভিযুক্ত ডাকসু প্রতিনিধি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংগঠনটি।
এদিকে স্মারকলিপি প্রদান শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বহুল কাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য সারাদেশে যে উৎসবমুখর পরিবেশ এবং বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে সেটিকে বিতর্কিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি ঘটনাকে সামনে এনে চাঁদাবাজের তকমা দিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে। ’
তিনি আরো বলেন, ‘সেই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছি এবং আমরা চেয়েছি এই ঘটনার সাথে চাঁদাবাজির কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কি না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আজ রাতের মধ্যে সেটি তদন্ত সাপেক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে সেটি প্রকাশ করবে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত সে যেই হোক না কেন, যত শক্তিধর হোক না কেন তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।’