জাবি: দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ছাত্রত্ব হারিয়েছেন সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম। জাকসুর মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় তিন মাস বাকি থাকলেও শীর্ষ দুই নেতার ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় সংসদের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এবং জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের ছাত্রত্ব নির্বাচনের আগেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যান।
নির্বাচিত হওয়ার পর জিএস মাজহার অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে চলতি বছরের মে মাসে তার কোর্স ও থিসিস কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। অন্যদিকে, ভিপি জিতু স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৫০৪ নম্বর কোর্স নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে না পারায় ছাত্রত্বের বৈধতা হারান।
এদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী স্নাতক সম্পন্নের জন্য নির্ধারিত চার বছরের সঙ্গে অতিরিক্ত দুই বছর এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্নের জন্য নির্ধারিত এক বছরের সঙ্গে অতিরিক্ত এক বছর সময় পাওয়া যায়। সে হিসাবে গত ফেব্রুয়ারিতেই জিতুর ছাত্রত্বের মেয়াদ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, গত মে মাসে একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করায় জিএস মাজহারেরও ছাত্রত্বের সমাপ্তি ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, ‘স্নাতকোত্তর পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার সাতদিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে হল ত্যাগ করার নির্দেশনা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্স শেষ করতে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থী আর নিয়মিত থাকে না, তাকে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’
তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, ‘জিতু নির্ধারিত সময়ে একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। ফলে স্বাভাবিক নিয়মে তার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে হলে তাকে উপাচার্যের অনুমোদন সাপেক্ষে বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।’
ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, ‘মাজহার তার একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।