ঢাকা: জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে বিশেষ বৈঠকে এই বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। এবারের বাজেটে নারীদের সাজসজ্জা ও রূপচর্চার খরচ কমাতে প্রসাধনী সামগ্রী ও কাঁচামাল আমদানিতে বড় ধরনের শুল্কছাড়ের ঘোষণা এসেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্কিন কেয়ার ও বিউটি পণ্যের বাজার ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এই কর-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশীয় ও আমদানিকৃত কসমেটিকস পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় কমবে, যার সরাসরি সুফল পাবেন সাধারণ নারী ভোক্তারা।’
দেশীয় স্কিন কেয়ার ও কসমেটিকস শিল্পে বড় সুবিধা
নতুন প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস শিল্পের বিকাশে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদনকারীদের উৎসাহিত করতে স্কিন কেয়ার ও রূপচর্চার পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল আমদানির ওপর করের বোঝা কমানো হয়েছে। এই দুটি কাঁচামালের ওপর বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এক লাফে কমিয়ে মাত্র ১০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কের এই বড় হ্রাসের ফলে দেশীয় প্রসাধনী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এর মাধ্যমে দেশীয় বাজারে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে এবং এই খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।
আমদানিকৃত লোশন, ক্রিম ও ফেসওয়াশের খরচ কমছে
বিদেশ থেকে আমদানি করা রূপচর্চার পণ্যের ক্ষেত্রেও এবারের বাজেটে বড় ধরনের সুখবর দেওয়া হয়েছে। নারীদের নিয়মিত ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত আমদানিকৃত বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী যেমন লোশন, ফেস ক্রিম এবং ফেসওয়াশের ওপর শুল্কের চাপ কমানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, এসব সামগ্রী আমদানিতে আগে যেখানে প্রতি কেজিতে ২০ ডলার শুল্ক দিতে হতো, সেটি কমিয়ে এখন মাত্র ৭ ডলার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শুল্কায়নের এই বড় ছাড়ের কারণে বিদেশি ব্র্যান্ডের ভালো মানের লোশন, ফেস ক্রিম ও ফেসওয়াশ আমদানিতে খরচ অনেক কমে যাবে, যা খুচরা বাজারে এসব পণ্যের মূল্য কমাতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
লিপস্টিক আমদানিতে কমছে শুল্কের চাপ
নারীদের প্রাত্যহিক সাজসজ্জার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ লিপস্টিকের দামও নতুন অর্থবছরে কমতে যাচ্ছে। বিদেশি ব্র্যান্ডের লিপস্টিক আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কহার কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবারের নতুন বাজেটে। আগে লিপস্টিক আমদানির ক্ষেত্রে কেজি প্রতি শুল্ক দিতে হতো ৪০ ডলার, যা কমিয়ে এখন ৩০ ডলার করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতি কেজিতে ১০ ডলার শুল্ক কমার কারণে বাজারে আমদানি করা লিপস্টিকের দাম আগের চেয়ে সাশ্রয়ী হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রূপচর্চাপ্রেমী নারীরা এখন থেকে কিছুটা কম খরচেই তাদের পছন্দের সাজসজ্জার সামগ্রী কিনতে পারবেন।