Thursday 11 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ব্যবসাবান্ধব ও ঐতিহাসিক’ বলল চিটাগাং চেম্বার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ জুন ২০২৬ ২৩:০৫

চিটাগাং চেম্বারের বাজেট পর্যালোচনা। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব, জনবান্ধব ও ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করেছে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের মূল্যস্ফীতি কমানো, খাদ্য নিরাপত্তা ও সাপ্লইচেইন ইকোসিস্টেম বজায় রেখে ব্যবসাবান্ধব এবং জনতুষ্টিমূলক বাজেট দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তারা।

জনগণের ওপর ভ্যাট ও করের চাপ কমিয়ে করজাল বাড়ানো এবং দেশি-বিদেশি উৎস থেকে অর্থ সংস্থানের পরিকল্পনা সম্বলিত এই বাজেটকে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেছেন চেম্বার নেতারা। জাতীয় সংসদে পেশকৃত বাজেট পর্যালোচনা শেষে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিক্রিয়া জানান চেম্বার নেতারা।

বিজ্ঞাপন

বাজেট পর্যালোচনাকালে উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপন, পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, মো. জাহিদুল হাসান, আসাদ ইফতেখার, এ এস এম ইসমাইল খান, ক্যাপ্টেন মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান, শহীদুল আলম, মোহাম্মদ শফিউল আলম ও মো. সেলিম নুর।

বিশেষ আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নসরুল কাদির, চট্টগ্রাম ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন’র সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সোলায়মান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান (সাগর), আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লি. চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন, সীকম গ্রুপের সিএফও গোলাম কিবরিয়া, অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ফার্ম বাসু ব্যানার্জি নাথ অ্যান্ড কোং-এর জিসি পাল, এম. এম. রহমান অ্যান্ড কোং-এর সিদ্ধার্থ বড়ুয়া, মো. সবুজ অ্যান্ড কোং এর মোদাচ্ছার আহমেদ সিদ্দিকী প্রমুখ।

বাজেটে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দুরত্ব ৮০ কিলোমিটার কমানোর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আবাসনসহ সকল ধরণের ইউটিলিটি সেবা বাড়ানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ উপযোগী করার আহবান জানান নেতারা।

চেম্বার নেতারা বলেন, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় বৈদেশিক ঋণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস গুরুত্ব দেওয়া দেশীয় সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। বাজেটে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, তথা শিক্ষা খাতকে। ব্যক্তি করদাতাদের টার্নওভার করের আওতামুক্ত সীমা তিন কোটি থেকে বাড়িয়ে চার কোটি এবং ব্যাংক স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক অব্যাহতির সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে উৎসাহী হবে।

চেম্বারের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, বাজেটে করপোরেট কর ব্যবস্থা সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করায় অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও ব্যবসার অনুমোদনযোগ্য খরচ বাড়ানো এবং করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা ইতিবাচক। পাবলিক ট্রেডেড কোম্পানির করহার শর্তসাপেক্ষে ২২.৫%, পাবলিকলি ট্রেডেড ব্যাংক, বিমা ও ফাইন্যান্স কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩৭.৫%, পাবলিকলি ট্রেডেড নয় কোম্পানির ক্ষেত্রে ৪০%, মোবাইল অপারেটর কোম্পানির জন্য ৪৫%, বাংলাদেশি অনিবাসী করদাতাদর জন্য ৩০%, ট্রাস্ট ফার্ম ও ব্যক্তিসংগ প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৭.৫%, সমবায় সমিতি ২০%, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০% করহার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করহার ১০% করায় উদ্যোক্তারা শিক্ষা খাতে আগ্রহী হবে। এ ছাড়া আমদানিকৃত ১১৩টি পণ্যের রেগুলার ডিউটি প্রত্যাহার, নয়টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং ৬৯টি পণ্যের কাস্টমস ডিউটি ২৫% থেকে ১৫% নির্ধারণ, শিশু খাদ্য প্রস্তুতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কহ্রাস, সকল মসলা আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক ও খেজুর আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক ৫% প্রত্যাহার, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করেন নেতারা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর