ঢাকা: মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ (এএমএল) ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (সিএফটি) বিষয়ে সচেতনতা ও দক্ষতা জোরদারে ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের জন্য একটি বিশেষ সেশন বা মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাক ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে, গত ২৯ ডিসেম্বর ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই সেশনে প্রশিক্ষণ দেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান (কারেন্ট চার্জ) মো. মোফিজুর রহমান খান চৌধুরী এবং যুগ্ম পরিচালক জুয়েরিয়া হক।
সেশনে বিএফআইইউ কর্মকর্তারা ‘টোন ফ্রম দ্য টপ’চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তুলতে পরিচালনা পর্ষদ ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনায় শীর্ষ নেতৃত্বের জবাবদিহিতা, ঝুঁকিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পরিবর্তনশীল আর্থিক অপরাধ ঝুঁকির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
এই সেশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল এএমএল ও সিএফটি সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রত্যাশা সম্পর্কে পরিচালনা পর্ষদের ধারণা আরও গভীর করা, তদারকি ভূমিকা জোরদার করা এবং ব্যাংকজুড়ে একটি শক্তিশালী কমপ্লায়েন্স সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব আরও সুদৃঢ় করা।
সেশনে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম. হাসান, ভাইস চেয়ারপারসন ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর অ্যান্ড বোর্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ার সালেক আহমেদ আবুল মাসরুর, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর অ্যান্ড বোর্ড অডিট কমিটির চেয়ার চৌধুরী এমএকিউ সারওয়ার। এ ছাড়া বোর্ড সদস্যদের মধ্যে ড. জাহিদ হোসেন, ফারজানা আহমেদ, লীলা রশিদ ও আনিতা গাজী রহমান উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খানসহ সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের সদস্যরাও এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএফআইইউ’র নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান (কারেন্ট চার্জ) মো. মোফিজুর রহমান খান চৌধুরী মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে পরিচালনা পর্ষদ ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ তদারকি ভূমিকার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, নেতৃত্বের জবাবদিহিতা ও ঝুঁকিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি ব্যাংক খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, সুশাসনের ঘাটতিই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ।
এই উদ্যোগ ব্র্যাক ব্যাংকের সুশাসন জোরদার, পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রক পরিপালন নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছ ও নৈতিক ব্যাংকিং চর্চা এগিয়ে নেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি দায়িত্বশীল ও আস্থার আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হলো।