ঢাকা: বিগত দুই বছর ধরে বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারেও সোনা-রুপার দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। জানুয়ারির মাত্র ২২ দিনে ১১ বার দর সংশোধন হয়েছে মূল্যবান ধাতু সোনার। সেইসঙ্গে দর সংশোধন হয়েছে রুপারও। গতকালের (২১ জানুয়ারি) দর সংশোধনে সোনার ভরি আড়াই লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়, সর্বোচ্চ দামে পৌঁছায় রুপার দামও। কিন্তু মাত্র একদিনের ব্যবধানে ফের দর সংশোধন হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সর্বশেষ দর সংশোধনে ভরিতে সোনার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমলেও এখনো তা আড়াই লাখ ছুঁই ছুঁই। দাম কমার পরও এখন ভালোমানের একভরি সোনা কিনতে লাগবে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। এদিকে এদিন রুপার দাম সংশোধনের ঘোষণা দেয় বাজুস। এবার ভালো মানের রুপার দাম ভরিতে কমেছে ৫২৫ টাকা। ফলে এক ভরি রুপা কিনতে লাগবে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সোনা ও রুপার দর সংশোধনের এ ঘোষণা দেয় বাজুস। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।
বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা (পিওর গোল্ড) ও রুপার দাম কমেছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সভায় সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।
বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২৩ জানুয়ারি থেকে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা কিনতে লাগবে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। এ ছাড়া, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিপ্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি পড়বে ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৭ টাকা।
এদিন রুপার দামও বাড়ানোর ঘোষণাও দেয় বাজুস। ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতিভরির ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সোনা ও রুপার বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ গত ২১ জানুয়ারি সোনার দর সংশোধন করে সংস্থাটি। ওইদিনও মূল্যবান এই ধাতুটির দাম বেড়েছিল। একইসঙ্গে বাড়ে রুপার দামও।