Monday 26 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বন্ড বাজার উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত

‎স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩১ | আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৭

ঢাকা: দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বন্ড বাজারের উন্নয়নকে সময়োপযোগী ও অত্যাবশ্যক বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। তবে উন্নয়নশীল দেশ ও সমমানের অর্থনীতির তুলনায় বাংলাদেশের বন্ড বাজার এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়া‌রি) বাংলাদেশে বন্ড বাজার উন্নয়ন বিষয়ে রাজধানীর একটি হোটেল একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের ক্ষেত্রে করপোরেট ও সরকারি খাত এখনো অতিমাত্রায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যমান বন্ড ইস্যু প্রক্রিয়া বাজারবান্ধব না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে না এসে সহজলভ্য ব্যাংক অর্থায়নের পথ বেছে নিচ্ছে—এমন বাস্তবতা উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রণীত এক ধারণাপত্রে।

বিজ্ঞাপন

পুঁজিবাজার উন্নয়নে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহৎ কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নে ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে বন্ড ও শেয়ার ইস্যুকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ক‌মি‌টি‌তে র‌য়ে‌ছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ইস্তেকমাল হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মো. আব্দুল ওয়াহাব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের পরিচালক মো. আবুল কালাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অর্থ বিভাগ) ফরিদ আহমেদ, অর্থ মন্ত্রণাললের উপসচিব (আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ) ফারজানা জাহান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ইকবাল হোসাইন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্মপরিচালক মো. রেজাউল হাসান।

কমিটির সহায়তায় বন্ড বাজার উন্নয়নের চাহিদা ও যোগান, রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক, বাজার অবকাঠামো এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় একটি বিস্তারিত ধারণাপত্র প্রস্তুত করা হয়।

ধারণাপত্রে বন্ড বাজার উন্নয়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে সীমিত সংখ্যক করপোরেট বন্ড, বন্ড ইস্যুতে উচ্চ ব্যয়, দুর্বল ক্রেডিট রেটিং ব্যবস্থা, ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা, সরকারি ও বেসরকারি পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ড পুরোপুরি ফান্ডেড না হওয়া, খণ্ডিত রেগুলেটরি কাঠামো, আইনি ও নিয়ন্ত্রণমূলক জটিলতা, মূল্যস্ফীতির চাপ, দুর্বল বাজার অবকাঠামো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও সচেতনতার ঘাটতির বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কার্যকর ও গতিশীল বন্ড বাজার গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনাও ধারণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, রেগুলেটরি সহায়তা, আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় এবং একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা গেলে দেশের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নে বন্ড বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এর মাধ্যমে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সারাবাংলা/এসএ/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর