ঢাকা: জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে দেশব্যাপী জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের সব ব্যাংকের শাখা ও উপশাখায় জনসচেতনতামূলক ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এক সার্কুলার জারি করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ৫ জানুয়ারি পত্রের (সূত্র নং: ০৩.০০.০০০০.০০০.০৩৯.১৬.০০০৩.২৫-৯০) প্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট বিষয়ে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে দুইটি খাড়া (ভার্টিক্যাল) ব্যানার প্রিন্ট করে ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখার দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
ব্যানারগুলোতে ‘গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন—দেশের চাবি আপনার হাতে’ শীর্ষক স্লোগানের মাধ্যমে ভোটারদের পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ব্যানারে উল্লিখিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে— তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের যৌথ অংশগ্রহণ; একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা সীমিত করা; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনে গণভোট বাধ্যতামূলক করা; বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন; প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের মেয়াদসীমা নির্ধারণ; সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি; ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ; মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ—যার মধ্যে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ না করার নিশ্চয়তাও রয়েছে।
এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা সীমিত করা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় সাংবিধানিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাবও ব্যানারে তুলে ধরা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক শাখাগুলোতে ব্যানার প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মধ্যে গণভোট ও সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং ভোটাররা প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।