ঢাকা: দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) একীভূত করে অন্তর্বর্তী সরকার একটি জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এফডিআর নির্ভর স্টক এক্সচেঞ্জ দুটির একীভুত করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে একটি মহল। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যর্থতার কারনেই মূলত এই দাবি করছেন তারা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ লক্ষ্যে বিশেষ সভা ডেকেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
দেশের পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) প্রতিষ্ঠার পরে দীর্ঘ সময় পার করলেও এখনো এফডিআর এর সুদের উপর ভর করে চলছে। উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে উচ্চ বেতনে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হলেও ব্যবসায় কোন উন্নতি হচ্ছে না। তাই এফডিআর এর সুদ থেকে লভ্যাংশ নিয়েই তৃপ্ত থাকতে হচ্ছে শেয়ারহোল্ডারদের। এমনকি এফডিআর না থাকলে, অস্তিত্ব সংকটের শঙ্কায় পড়তে হতো স্টক এক্সচেঞ্জ দুটিকে।
জানা গেছে, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আজ সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সভাকক্ষে বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় ডিএসই ও সিএসই একীভূত করা, সিডিবিএলকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা এবং সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিসিবিএল) ডিএসইর সাবসিডিয়ারি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল ডিএসই প্রতিষ্ঠিত হয়। এর বাজার মূলধন ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা ৬৫১টি। তবে সিকিউরিটিজ ছাড়া তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৯৭টি। আবার মিউচুয়াল ফান্ড ছাড়া কোম্পানির সংখ্যা ৩৬০টি। ৪ শতাধিক ব্রোকার হাউসের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের দৈনিক গড় লেনদেন ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকায় ওঠানামা করছে।
অন্যদিকে সিএসই প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূলধন ৭ লাখ ৮২ হাজার ৭৬০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বর্তমানে ৪ শ সিকিউরিটিজ রয়েছে। দিনে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, বন্ড এবং মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ মাত্র ১৫ দিন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ এই মুহূর্তে কার্যকর হবে না। তারা বলছেন, স্টক এক্সচেঞ্জ একীভূত করা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়, যা নির্বাচিত সরকার ছাড়া বাস্তবায়ন সহজ হবে না। তবে প্রস্তাবটি আগামী সরকারের জন্য রেখে যাওয়া সার্থক উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
এরইমধ্যে এই সভায় অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিসএসইসি) চেয়ারম্যান, ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল ও সিসিবিএলের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের অনুরোধ করা হয়েছে।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশে পুঁজিবাজার বলতে মূলত ডিএসইকেই বোঝায়। ৩০ বছর পার হলেও সিএসই বাজার গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সরকারের উচিত একক পুঁজিবাজার হিসেবে ডিএসই রাখা এবং সিএসইকে কমোডিটি এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করা।