ঢাকা: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে কয়েকটি দেশের ওপর উচ্চমাত্রার নির্ভরতা স্পষ্ট হয়েছে। অনলাইন ইমপোর্ট মনিটরিং সিস্টেমের অস্থায়ী তথ্য অনুযায়ী, মসুর ডাল, মটর ডাল, পাম অয়েল, ছোলা, চিনি ও খেজুর আমদানিতে শীর্ষ কয়েকটি দেশই মোট আমদানির বড় অংশ সরবরাহ করেছে।
ছোলা আমদানির মোট পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮১ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ১৫ শতাংশ এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। সিঙ্গাপুর ও ভারত যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
চিনি আমদানিতে ব্রাজিল শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ। মোট ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টন চিনির মধ্যে ৩৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এসেছে ব্রাজিল থেকে। এরপর রয়েছে সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ফ্রান্স।
খেজুর আমদানিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট। মোট ৫৯ হাজার ৮৫৪ মেট্রিক টন খেজুরের মধ্যে ৬০ দশমিক ০৬ শতাংশ এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে। সৌদি আরব (১৮.২৭%) ও ইরাক (৯.৫৫%) পরবর্তী অবস্থানে।
২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৮২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া একাই সরবরাহ করেছে ৪২ দশমিক ০৯ শতাংশ, আর সিঙ্গাপুর থেকে এসেছে ২৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। কানাডা, ভারত ও জার্মানিও উল্লেখযোগ্য অংশীদার হলেও তাদের অংশ তুলনামূলকভাবে কম।
মটর ডাল আমদানির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৭৪ মেট্রিক টন। এতে ৩৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। এরপর রয়েছে কানাডা (২২.৭৪%) ও নেদারল্যান্ডস (১৭.৮২%)। অস্ট্রেলিয়ার অংশ ১৪.৭৪ শতাংশ।
পাম অয়েল আমদানিতে সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা দেখা গেছে সিঙ্গাপুরের ওপর। মোট ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৭০৮ মেট্রিক টন পাম অয়েলের মধ্যে ৬৮ দশমিক ২৮ শতাংশই এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে। ইন্দোনেশিয়া (১৮.৩৭%) ও মালয়েশিয়া (৬.২২%) দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতা সরবরাহ ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বিকল্প বাজার অনুসন্ধান এবং উৎস বৈচিত্র্যকরণের দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সারাবাংলা/এসএ