ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আপাতত বড় ধরনের কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি।
রোববার (১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ আপডেটে এ তথ্য জানা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৩০ পয়সায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আমদানি ব্যয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর পড়তে পারে।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যুদ্ধ যদি স্বল্প সময়ের জন্য হয়, তাহলে মার্কেটে তেমন একটা প্রভাব পড়বে না। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ডলার বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ও ইরানে সিরিজ হামলা চালায় যুক্ররাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরদিন সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ায় এবং সাধারণত ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তবে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে তার তাৎক্ষণিক প্রতিফলন দেখা যায়নি।
ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহে স্বস্তি তৈরি হয়েছে।
এই অনুকূল পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উলটো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত ডলার কিনছে, যাতে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিলামের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মোট ৫ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রেমিট্যান্সের উচ্চপ্রবাহ, আমদানি চাহিদায় তুলনামূলক স্থিতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় বাজার তদারকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটময় পরিস্থিতিতেও ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তাহলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে—যা পরবর্তীতে ডলারের চাহিদা বাড়িয়ে বিনিময় হারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও আপাতত দেশের ডলার বাজার স্থিতিশীল থাকলেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।