Wednesday 11 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকি, উদ্বেগ ডিসিসিআই’র

স্টাফ করেসপন্ডেট
১১ মার্চ ২০২৬ ১৮:৫৭

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

বুধবার (১১ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে ডিসিসিআই এ তথ্য জানায়।

সংগঠনটি বলছে, এ সংঘাতের প্রভাবে ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ এবং আর্থিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

ডিসিসিআইয়ের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকলে বাংলাদেশের বহিঃখাতের ওপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে। তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লে দেশের মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতি আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংগঠনটি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ রুটে দীর্ঘমেয়াদি কোনো বিঘ্ন দেখা দিলে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে ফ্রেইট চার্জ, বিমা প্রিমিয়াম ও পণ্য সরবরাহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

ডিসিসিআই বলছে, বাংলাদেশের রফতানিমুখী শিল্পখাত; বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, উচ্চ লজিস্টিক ব্যয়, সাপ্লাই চেইন বিঘ্ন এবং সমুদ্রপথে পরিবহণের বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে গত সাত মাস ধরে দেশের রফতানি কমতে কমতে প্রায় তলানিতে পৌঁছেছে।

তবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সম্প্রতি এলএনজি, এলপিজি ও ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি বহনকারী ১০টির বেশি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশ করেছে, যা স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

ডিসিসিআই বলছে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী ও ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে সম্ভাব্য বিঘ্নসহ নানা সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারের প্রতি আগাম ও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডিসিসিআই। সংগঠনটি কৌশলগত জ্বালানি মজুদ বাড়ানো, জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, সাপ্লাই চেইনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপরও জোর দিয়েছে তারা।

সারাবাংলা/এসএ/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর