ঢাকা: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন ইসলামী ধারার পাঁচটি ব্যাংক থেকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধনে এ দাবি করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
তাদের দাবি, অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী ৭ থেকে ৮ বছর ধরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালন করলেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শভিত্তিক গোষ্ঠীর প্রভাবে তাদের বিরুদ্ধে বদলি, প্রশাসনিক হয়রানি, আইডি নিষ্ক্রিয়করণ, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে গণহারে চাকরিচ্যুত করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর মব সৃষ্টির মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পদোন্নতি গ্রহণ করেন এবং অবসরে যাওয়া কিছু ব্যাংকারকে শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা দখল করা হয়। একইসঙ্গে বিদ্যমান বোর্ড ভেঙে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত নতুন বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালা উপেক্ষা করে শান্তিমূলক বদলি, যোগ্যতা যাচাই ছাড়া পদোন্নতি, ‘দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষার’ নামে ছাঁটাই প্রক্রিয়া এবং দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘বায়তুল মাল’ এর নামে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর পুনর্বহাল,
- বিতর্কিত পদোন্নতি ও নিয়োগ বাতিল,
- নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন,
- ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং
- দক্ষ ও পেশাদার বোর্ড ও ম্যানেজমেন্ট পুনর্গঠন।
মানববন্ধনে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।