Monday 07 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ দ্রুত গঠনের দাবি সচেতন গ্রাহক ফোরামের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:১১

বক্তব্য রাখছেন ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম-এর নেতারা – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ দ্রুত গঠনসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। দাবি পূরণ না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব দাবি জানান ফোরামের নেতারা। এ সময় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন, এস আলম গ্রুপের শেয়ার বাজেয়াপ্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

ফোরামের নেতারা জানান, প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেন তাদের উত্থাপিত বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন। সমস্যাগুলো সমাধানে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক।
তিনি বলেন, অন্য ব্যাংকের মতো ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। তার দাবি, একটি বৃহৎ ব্যাংক দীর্ঘদিন পরিচালনা পর্ষদ ছাড়া শুধু প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে না।

নুর নবী মানিক আরও বলেন, এস আলম গ্রুপের শেয়ার বাজেয়াপ্ত-সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। মামলাটি শেষ পর্যায়ে এসে ইসলামী ব্যাংক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তার আশঙ্কা, এর ফলে ইসলামী ব্যাংক মামলাটি থেকে সরে আসতে পারে।

তিনি বলেন, অনতিবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে ফোরামের সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

ফোরামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন।
এ ছাড়া ২০১৭ সালে ব্যাংকের মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল দাবি করে প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

ব্যাংক থেকে অর্থ লুটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লুট করা অর্থ উদ্ধারের দাবিও রয়েছে। বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের দেনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে তারা।

ফোরাম আরও বলেছে, ইসলামী ব্যাংকগুলো নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে যে আতঙ্ক রয়েছে তা দূর করতে হবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া ব্যাংক খাতে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের পুনরায় ব্যাংক ও আর্থিক খাতে পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ করতে আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছে ফোরাম। এ ধরনের ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদে বা স্থায়ীভাবে ব্যাংক ও অর্থনৈতিক খাতে অযোগ্য ঘোষণারও দাবি করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীদের দেওয়া ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পরিবারের সম্পদ নয়; এটি কোটি গ্রাহকের আমানত ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর