ঢাকা: দেশের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ নির্দেশনার আওতায় দেশের কার্যরত সব ফাইন্যান্স কোম্পানি পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পরিপালন করতে হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গত ৮ জুন জারি করা সার্কুলারের আওতায় দেশের কার্যরত সব ফাইন্যান্স কোম্পানি পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে ২০২৫ সালের পর ১৭ মার্চ জারি করা সার্কুলারের ১৪.৪.২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং একই বছরের
১২ নভেম্বর জারি করা সার্কুলারের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তগুলো পরিপালন করতে হবে।
অর্থাৎ, পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বনির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত মেনে চলতে হবে। এতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত কাঠামো অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, গত ৮ জুন জারি করা সার্কুলারের ০৪-এর অন্যান্য নির্দেশনাও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। ফলে শুধু পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের যোগ্যতা অর্জনই নয়, সংশ্লিষ্ট সার্কুলারে থাকা অন্যান্য নির্দেশনাও অংশগ্রহণকারী ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর ৪১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সিএমএসএমই খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ খাতের ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চলতি মূলধনের জোগান নিশ্চিত করা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে দেশের কার্যরত ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় আসার সুযোগ পাবে।
তবে সার্কুলারে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মোট আকার, সুদের হার, ঋণগ্রহীতার জন্য নির্ধারিত সুদহার, পৃথক খাতে বরাদ্দ কিংবা কত অর্থ বিতরণ করা হবে—এসব বিষয়ে নতুন করে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এ নির্দেশনার মূল বিষয় হলো, ৮ জুনের সার্কুলার নং-০৪-এর আওতায় ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর যোগ্যতা এবং অংশগ্রহণের শর্ত স্পষ্ট করা।
নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচিতে ব্যাংকের পাশাপাশি ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগকে আরও স্পষ্ট করা হলো। ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো এই কর্মসূচির আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হতে পারবে।