Saturday 07 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাধ্য করে অংশীদার হওয়া যায় না: ফরাসী রাষ্ট্রদূত

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৪৬ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:১৭

– ছবি : সারাবাংলা

ঢাকা: বাধ্য করে অংশীদার হওয়া যায় না- বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমান যথাসময়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করবে কি না, তা নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন। তবে একই সঙ্গে তিনি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ইউরোপে ৪৮ শতাংশ তৈরি পোশাক রফতানি করে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৭ শতাংশ রফতানি করে। একসাথে এগিয়ে যাওয়াই অংশীদারিত্ব।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের এয়ারবাস কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, কয়েক বছর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের বহর বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। এরপর এয়ারবাসের সঙ্গে কারিগরি জরিপ ও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এয়ারবাস কেনা বিমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

তিনি বলেন, বিশ্বের বড় এয়ারলাইন্সগুলোর অনেকেরই এয়ারবাস ও বোয়িং—দুই ধরনের উড়োজাহাজ রয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বহরে বৈচিত্র্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এমন উড়োজাহাজের মধ্যে এয়ারবাস এ৩৫০ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কারিগরি ও যৌক্তিক বিবেচনায় বিমান এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছে বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই।

তিনি বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের আলোচনা এখনও চলছে এবং তা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে আলোচনার কারিগরি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চান না তিনি।

বোয়িংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বিমান যথাযথ সময়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই করবে কি না, তা নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই। আমি এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ওপর জোর দিই এবং বর্তমান কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা এই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, এটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি ভালো পরীক্ষা এবং ফ্রান্স আত্মবিশ্বাসী যে সরকার বিষয়টি বুঝবে। এ নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই।

এয়ারবাসের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য চুক্তিকে শুধু উড়োজাহাজ কেনার বিষয় হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স—এমন মন্তব্য করে সেরে-শার্লে বলেন, এর মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির একটি বড় অংশ ইউরোপের বাজারে যায়। তাই এয়ারবাসের সঙ্গে অংশীদারত্বকে ফ্রান্স দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা করছে। এয়ারবাসের ক্ষেত্রেও তারা শুধু উড়োজাহাজ বিক্রি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।

অনুষ্ঠানে ডিকাব সভাপতি একেএম মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস বক্তব্য রাখেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর