ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ৭৬৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে নির্মাণ বা পূর্তকাজে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং পরামর্শক ব্যয় বাড়ছে ৪০৫ কোটি টাকা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এ-সংক্রান্ত ব্যয় বৃদ্ধির দুটি পৃথক ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় তিনি ভার্চ্যুয়ালি এ বৈঠকে অংশ নেন এবং সভাপতিত্ব করেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় চুক্তি ও পরামর্শক ব্যয় বাড়ার দুটি পৃথক ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ ২২ হাজার টাকা। মূল চুক্তি মূল্য ছিল ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এটি বেড়ে মোট সংশোধিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে- ‘এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ (যৌথভাবে জাপানের মিতসুবিশি কর্পোরেশন ও ফুজিতা কর্পোরেশন এবং কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি)।
অন্যদিকে অপর ভেরিয়েশন প্রস্তাবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরামর্শক ব্যয় ৪০৫ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে যৌথভাবে- জাপানী প্রতিষ্ঠান ‘নিপ্পন কোয়ি কোম্পানি লিমিটেড’ ও ‘ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গ্লোবাল কোম্পানি লিমিটেড’; সিঙ্গাপুর ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সিপিজি কনসালট্যান্টস পিটিই লিমিটেড’ ও দেশিয় প্রতিষ্ঠান ‘ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টস লিমিটেড’। পরামর্শক ব্যয়ের মূল চুক্তিমূল্য ছিল ৭৭১ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এটি বেড়ে মোট সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ১৭৬ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে তিন ক্যাটাগরির মোট ২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির ৬টি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে-
রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতি মেট্রিক টন ৪৪৬.৬৭ ডলার দরে সৌদি আরবের ‘সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি’ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হবে ২২০ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সিএফআর ভিত্তিতে প্রতি মেট্রিক টন ৫৩১.৬৭ ডলার দরে ‘ফার্টিগ্লোব-ইউএই’ থেকে ৪২ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হবে ২৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতি মেট্রিক টন ৩৮৩.৮০ ডলার দরে রাশিয়ার ‘জেএসসি ফরেন ইকোনমিক কর্পোরেশন (প্রুডিনটর্গ)’ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক এমওপি সার আমদানিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতি মেট্রিক টন ৩৮২.৩৮ ডলার দরে ‘কানাডিয়ান কমার্শিয়াল কর্পোরেশন’ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন করে দুটি পৃথক লটে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় মোট ব্যয় হবে ৩৭৭ কোটি ৭৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতি মেট্রিক টন ৮৬১.৫০ ডলার দরে সৌদি আরবের ‘মা-এডেন’ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হবে ৪২৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।
১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি ক্রয়
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে ই-জিপির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দুটি পৃথক প্রস্তাবে ৫০ কেজির বস্তায় মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাঁচ হাজার মেট্রিক টন করে দুটি প্রস্তাবেই চিনি সরবরাহের কাজটি পেয়েছে ‘মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড’। তবে দুটি প্রস্তাবের দর ভিন্ন। এতে দুই ক্রয় প্রস্তাবে মোট ব্যয় পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে ৫০ লাখ টাকা।
প্রথম প্রস্তাবে প্রতি কেজি ১০২ টাকা ৯৫ পয়সা দরে ৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি ক্রয়ে মোট ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
আর দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রতি কেজি ১০৩ টাকা ৯৫ পয়সা দরে ৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি ক্রয়ে মোট ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
৯টি এলএনজি কার্গো আমদানির দর অনুমোদন
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, এছাড়া বৈঠকে জি-টু-জি-এর আওতায় ‘ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড’ থেকে ৯টি কিংবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে এর কম বা বেশি সংখ্যক এলএনজি কার্গো আমদানির দর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব কার্গো আমদানি করা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি’র অনুমোদিত দর হচ্ছে জেকেএম-০.১০ মার্কিন ডলার।