Monday 02 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

প্রয়াত আনসার সিপাহির ব্যাংকঋণ পরিশোধ করলেন মহাপরিচালক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:২৪ | আপডেট: ২ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:২৬

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দায়িত্ব পালনকালে গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণকারী সাতক্ষীরা আনসার ব্যাটালিয়নের (৩০ বিএন) সিপাহি জয় গাইনের পরিবারের মাথায় থাকা ব্যাংকঋণের পুরো বোঝা পরিশোধের দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের বিশেষ উদ্যোগে প্রয়াত সিপাহির স্ত্রী মণিষা বিশ্বাসের হাতে ৪ লাখ ২১ হাজার ৭৬৩ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) খিলগাঁওস্থ বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদর দফতরে এক আবেগঘন পরিবেশে মহাপরিচালক নিজে উপস্থিত থেকে সিপাহি জয় গাইনের স্ত্রী মণিষা বিশ্বাসের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় বাহিনীর পরিচালক (ওয়েলফেয়ার) এনামুল খাঁনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, চলতি বছরের ১২ মার্চ সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অকালমৃত্যু বরণ করেন সিপাহি জয় গাইন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে তিন বছর এবং মাত্র সাত মাস বয়সী দুটি অবুঝ সন্তানকে নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা ও শোকের মুখে পড়েন স্ত্রী মণিষা বিশ্বাস।

পরিবারের এই উপার্জক্ষম ব্যক্তিকে হারানোর শোকের পাশাপাশি বড় সংকট হয়ে দাঁড়ায় ব্যাংকঋণের দেনা। প্রয়াত জয় গাইন আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, যা সুদসহ দাঁড়িয়েছিল ৪ লাখ ২১ হাজার ৭৬৩ টাকায়। দুটি ছোট সন্তান নিয়ে সংসার চালানো যেখানে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল, সেখানে এই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা মণিষার জন্য হয়ে উঠেছিল পাহাড়সম বোঝা। এই অবস্থায় মণিষা বিশ্বাসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন বাহিনীর মহাপরিচালক। কল্যাণ তহবিল থেকে এই অর্থ অনুদান হিসেবে প্রদান করে পরিবারটিকে ব্যাংকঋণের সমুদয় দায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা হয়।

আনসার সদর দফতর জানায়, মহাপরিচালকের এই সময়োপযোগী ও সহানুভূতিশীল উদ্যোগে প্রয়াত সিপাহির পরিবার ঋণমুক্ত হয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও মানসিক স্বস্তি পেল। বাহিনীর এই পদক্ষেপ প্রমাণ করল—সহযোদ্ধা চিরতরে বিদায় নিলেও তার রেখে যাওয়া পরিবার কখনো একা হয়ে পড়ে না, অভিভাবক হিসেবে বাহিনী সর্বদা পাশে থাকে।

সারাবাংলা/এমএইচ/এসআর