Wednesday 04 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:৩২ | আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৭:২১

-ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

ঢাকা: রাজধানীর শনির আখড়ায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখায় এক গৃহিণীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকের সরলতা ও নিরক্ষরতার সুযোগ নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারগিস আক্তার। এ ঘটনায় ব্যাংকটির চার কর্মকর্তাসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে মামলার আবেদন করেন নারগিস আক্তার। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাদীর আইনজীবী মাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার আসামিরা হলেন- ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সৌরভ সাহা, রেমিট্যান্স অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. গোলাম কিবরিয়া।

এ ছাড়া গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাকিম আলী সরদার, ম্যানেজার কাজী এনামুল কবির ও শওকত হাসান এবং প্রতিষ্ঠানটিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগী নারগিস আক্তার একজন নিরক্ষর গৃহিণী। জমি ও গাড়ি বিক্রির টাকা এবং বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে সঞ্চিত মোট ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৯ টাকা তিনি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখায় জমা রাখেন। নিরক্ষর হওয়ার কারণে ব্যাংকের কর্মকর্তারাই তাকে চেক পূরণ ও টাকা জমা দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর নারগিস আক্তার ব্যাংকে পাঁচ লাখ টাকা তুলতে যান। এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তারা কৌশলে তার চেক বই থেকে একটি অতিরিক্ত চেক রেখে দেন। পাশাপাশি ডিপিএস খোলার কথা বলে কয়েকটি কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

এরপর গত ৪ অক্টোবর ব্যাংকে গিয়ে হিসাবের স্থিতি জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, তার হিসাবে মাত্র ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২০৪ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে। অথচ এর আগে হিসাবে জমা ছিল ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৯ টাকা। বাকি টাকা কোথায় গেল জানতে চাইলে ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহিত মোরশেদ তাকে জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর ‘পজিটিভ পে ইনস্ট্রাকশন’ ফরমের মাধ্যমে একটি চেকে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডকে ৮৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি ব্যাংকে যাননি এবং ওই প্রতিষ্ঠানকে কোনো চেকও দেননি। বরং ১৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কর্মকর্তারা যে অতিরিক্ত চেকটি কৌশলে রেখে দিয়েছিলেন, সেটিতে জাল স্বাক্ষর ও টাকার অঙ্ক বসিয়ে ৮৫ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, জাল চেকের বিপরীতে পজিটিভ পে ফরম তৈরি করে পূবালী ব্যাংক পিএলসির রাজবাড়ী শাখায় গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। পরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে আসামি শওকত হাসান পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে নগদ ৮৫ লাখ টাকা তুলে নেন।

নারগিস আক্তারের দাবি, তিনি কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ গত ১ সেপ্টেম্বর খোলা গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবে তার অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ কাজে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

আদালতে করা মামলায় এসব অভিযোগের তদন্ত চাওয়া হয়েছে। পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।