ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির ৮ম বৈঠকে বিগত সরকারের আমলের আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকেই কোনো ধরনের দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের আমলেও কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না- মর্মে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অডিট আপত্তি এবং সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক এবং মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় বন্দর কর্তৃপক্ষের তহবিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ উৎসাহ বোনাস প্রদানের বিষয়টি। এই আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সমস্যাগ্রস্ত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বন্দর কর্তৃপক্ষের নীতিমালাবহির্ভূত অতিরিক্ত এফডিআর বিনিয়োগ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের পরও অর্থ উত্তোলন না করার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। ভবিষ্যতে বন্দর কর্তৃপক্ষের সকল অর্থ কেবল সরকারি ব্যাংকে জমা রাখার পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্দর সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিং প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ই-বিলিং ও ই-পেমেন্টের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় শুল্ক পরিশোধ এবং দ্রুত পণ্য খালাসের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘকাল ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহনসংক্রান্ত জটিলতা আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে খালি কনটেইনারের আড়ালে মালবাহী কনটেইনার বের করে নেওয়া এবং কনটেইনার চুরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।