Monday 09 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘কিডনি রোগ শুরুতে চিহ্নিত করা গেলে নিরাময় সম্ভব’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ মার্চ ২০২৬ ২১:৩৬

বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষ্যে রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমাণ ছাদখোলা গাড়ি উদ্বোধন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, কিডনি নীরবঘাতক। উপসর্গ দেখার আগেই কিডনির নিয়মিত পরীক্ষা করানো উচিত। কিডনি রোগের চিকিৎসা যেমন ডায়ালাইসিস, ট্রান্সপ্ল্যান্ট অনেক ব্যয়বহুল। কিডনি রোগ শুরুতে চিহ্নিত করা গেলে এ রোগ নিরাময়, নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনা সৃষ্টির বিকল্প নাই। সে কারণেই আজকে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমান ছাদখোলা গাড়ির শুভ উদ্বোধন করা হলো। কিডনি রোগ প্রতিরোধে ভেজাল খাবার খাওয়া যাবে না।

রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ (সাবেক পিজি হাসপাতাল) এর বি ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গণ বটতলায় বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ এর প্রাক্কালে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমান ছাদখোলা গাড়ির শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান, ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সদস্য সচিব ডা. মো. ফরহাদ হাসান চৌধুরী বলেন, ‘গত এক দশকে কিডনি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দিগুণ হয়েছে। কিডনি রোগের উপসর্গ নিয়ে যখন রোগী চিকিৎসকের কাছে যান তখন তার কিডনি তিন ভাগের এক ভাগ অকার্যকর হয়ে যায়। তখন রোগ নিরাময়, নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বছরে একবার হলেও কিডনি রোগের পরীক্ষা করা উচিত। ইউরিন আর ই, ক্রিয়েটিনিন এর মতো সাধারণ পরীক্ষা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ করলেই কিডনিতে সমস্যা আছে কিনা তা জানা যায়। জনগণকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, ২০১৯ সালে প্রকাশিত আটটি স্টাডির ওপর একটি সিস্টেমিক রিভিউয়ের মতে বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে এই তথ্যকে সঠিক ধরে নিলে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ এবং দ্রুত হারে এ সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী গত ১ দশকে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই মহামারিতে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার যে ক্ষমতা, সে অনুযায়ী এই নতুন রোগীদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রোগীকে ট্রান্সপ্লান্ট, ডায়ালাইসিস এবং অন্যান্য চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। তার মানে প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অথবা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছে। শুধু যে বাংলাদেশে এই কিডনি রোগের সংখ্যা বাড়ছে তা নয়, সারা পৃথিবীব্যাপী বর্তমানে ৮৫ কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দুই যুগ আগে মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগ ছিল ২৭তম স্থানে। বর্তমানে এটির স্থান অষ্টম এবং ২০৪০ সাল নাগাদ কিডনি রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থান দখল করবে, যা মোটে কাম্য নয় বলে জানান বক্তরা।

সারাবাংলা/এমএইচ/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর