ঢাকা: দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় একযোগে শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে বিভিন্ন জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যার আওতায় লাখো শিশুকে টিকার মাধ্যমে সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের এই কর্মসূচির আওতায় এনে হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলায় ৬ লাখ ৩ হাজার ৮৩১ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলার ১৩ উপজেলায় ৩ হাজার ৬৪৪টি কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হচ্ছে, যা আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলবে।
টাঙ্গাইল জেলায় ১২টি উপজেলার ৩৯০টি ওয়ার্ডে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৬৯ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে ৫৯১ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিচ্ছেন।
নওগাঁ জেলায় ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮৭ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার ২ হাজার ৪৬০টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকাদান চলছে।
কুষ্টিয়া জেলায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৯২৬ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে ছয়টি স্থায়ী ও ১ হাজার ৬৮৪টি অস্থায়ী কেন্দ্রে একযোগে কার্যক্রম চলছে।
ঠাকুরগাঁও জেলায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫১১ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য ১ হাজার ৩৬৩টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
পিরোজপুর জেলায় ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯১ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। ১১ দিনব্যাপী এ কার্যক্রম জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে একযোগে পরিচালিত হচ্ছে।
বান্দরবান জেলায় ৬০ হাজার ২২৭ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৭৬৮টি অস্থায়ী ও আটটি স্থায়ী কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলায় ১০ হাজার ৫৭০ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৯৭টি টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলায় ৩৪ হাজার ৮৪৩ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রথম দিনেই ২ হাজার ২২৩ শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় সময়মতো টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাম ও রুবেলা একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো টিকাদানের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। একটি সুস্থ ও নিরাপদ প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সার্বিকভাবে স্বাস্থ্য বিভাগ মনে করছে, দেশব্যাপী এই সমন্বিত উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে শিশুদের মধ্যে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।