ঢাকা: সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দেশটির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন সিনেট।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সিনেটে ‘যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব’ নিয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাভোটিতে হেরে যান ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা।
১০০ সদস্যের সিনেটে প্রস্তাবটি পাসের পক্ষে ভোট দেন ৫২জন, বিপক্ষে ৪৭ জন। ভোটাভুটিতে সব ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির পাঁচজন সিনেটরও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। একজন রিপাবলিকান সিনেটর ভোটদানে বিরত থাকেন।
এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয় এমন এক সময়, যার কিছুদিন আগেই কারাকাসে নাটকীয় এক সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে নৌযানে হামলাসহ দেশটির ওপর ব্যাপক সামরিক চাপ বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সিনেটে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক যুদ্ধকালীন ক্ষমতায় লাগাম টানার প্রস্তাব তুলছেন কয়েকজন সিনেটর।
যদিও এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল রিপাবলিকানের সিনেটররা ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে তোলা একাধিক প্রস্তাব আটকে দিয়েছেন। তবে সর্বশেষ ভোটে ব্যবধান ছিল ৪৯-৫১; যেখানে ট্রাম্পের দলের দুই সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে নভেম্বরের একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। ওই সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের বলেছিলেন, তারা ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন কিংবা দেশটির ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনা করছেন না।
তবে মাদুরোর আটক ও ট্রাম্পের কড়া বক্তব্যের পর ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান সিনেটরও অভিযোগ তুলেছেন—প্রশাসন কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করেছে। একই সঙ্গে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ট্রাম্প ভবিষ্যতে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের ক্ষেত্রেও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।
ভোটের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবটির সহ-উপস্থাপক কেন্টাকির রিপাবলিকান দলীয় সিনেটর র্যান্ড পল বলেন, ‘‘আজ আমি অন্তত দু’জন রিপাবলিকানের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা আগে এই প্রস্তাবে ভোট দেননি; কিন্তু এবার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না, তারা কীভাবে ভোট দেবেন। তবে অন্তত দুজন ভাবছেন। আর তাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যেই এ নিয়ে নিজেদের দ্বিধার কথা জানিয়েছেন।’’ পল এ সময় ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর টিম কেইনের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলেন, যিনি এই প্রস্তাবের আরেক নেতা।
পল ওই রিপাবলিকানদের নাম জানাননি। সিনেটে ট্রাম্পের দলের আসনসংখ্যা ৫৩, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭।
সামনে কঠিন পথ
বৃহস্পতিবারের ভোটকে কংগ্রেসের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে আইনপ্রণেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আইনে পরিণত হওয়ার জন্য প্রস্তাবটিকে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে পাস করাতে হবে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রত্যাশিত ভেটোও উতড়ে যেতে হবে। প্রস্তাবটিকে আইনে পরিণত করার জন্য উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।
আইনপ্রণেতারা এসব বাধার কথা স্বীকার করলেও বলেছেন, কিছু রিপাবলিকান ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সরকার পরিবর্তন অভিযানে জড়াতে অনিচ্ছার কথা জানাতে পারেন। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার করতে চান।
কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার নৌযানে হামলা চালিয়ে আসছে। তিনি ট্রাম্পের অতীতের এক বক্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা চালাবে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল জব্দের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। কেইন বলেন, এটি কোনোভাবেই একটি সীমিত গ্রেফতার অভিযান নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান শুরু করার আগে যে কোনও প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়।
অন্যদিকে প্রস্তাবের বিরোধী সিনেটররা দাবি করছেন, মাদুরোর আটক একটি আইন প্রয়োগকারী অভিযান, পূর্ণাঙ্গ সামরিক পদক্ষেপ নয়। তাঁদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমিত সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।