ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কার মুখে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এমন কিছু ঘটলে তারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পালটা আক্রমণ চালাবে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ব্রিটিশ গণমাধ্যাম রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
২০২২ সালের পর ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক দিনে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার (১০ জানুয়ারি) তিনি ইরানি নেতাদের বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।’
রোববার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের ‘ভুল হিসাব’ না করার বিষয়ে সতর্ক করেন।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাবেক এই কমান্ডার বলেন, ‘পরিষ্কারভাবে জেনে রাখুন, ইরানে কোনো আক্রমণ হলে অধিকৃত ভূখণ্ড (ইসরায়েল) এবং সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।’
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা দমনে ইরান সরকার তৎপরতা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হারানা’-এর তথ্যমতে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে বড় অংশ বিক্ষোভকারী হলেও ৩৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন।
মূলত লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হলেও তা দ্রুতই ১৯৭৯ সালের বিপ্লব পরবর্তী ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে রূপ নেয়। ইরান সরকার এই অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ায় ইরান থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নেটব্লকস জানিয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ও রয়টার্সের যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের পুনাক এলাকায় রাতের আঁধারে শত শত মানুষ ব্রিজের রেলিংয়ে শব্দ করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের হাতে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দাফন সম্পন্ন হচ্ছে। সরকার নিহতদের মোট সংখ্যা না জানালেও বলা হয়েছে যে, কেরমানশাহ ও মাশহাদসহ বিভিন্ন স্থানে ‘দাঙ্গাকারীদের’ হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত এবং ধর্মীয় স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এই পরিস্থিতির জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছে এবং পুলিশ প্রধান আহমদ রেজা রাদান দাঙ্গাকারীদের কঠোরভাবে দমনের ঘোষণা দিয়েছেন।