চলমান অস্থিরতা ও বিক্ষোভের পর ইরানের পরিস্থিতি এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, গত সপ্তাহে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে আব্বাস আরাগচি এ দাবি করেন।
তবে এ বৈঠকে তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশব্যাপী চলমান বিক্ষোভকে পরিকল্পিতভাবে ‘রক্তাক্ত ও সহিংস’ করা হয়েছে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের একটি ‘অজুহাত’ খুঁজে পান।
তিনি বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি যেন বিক্ষোভকে আরও রক্তাক্ত ও সন্ত্রাসবাদী করে তোলে। এর ফলে বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিদেশী হস্তক্ষেপ আরও সহজ হবে।
আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের পথও খোলা রেখেছি।’
আরাগচি আরও বলেন, ইরানের কাছে বিক্ষোভকারীদের মাঝে অস্ত্র বিতরণের ফুটেজ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চলমান ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই আটককৃতদের স্বীকারোক্তি প্রকাশ করবে।
তিনি বলেন, বিক্ষোভে বিদেশী ইন্ধন জোগানো হয়েছিল যাতে তারা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ওপর আক্রমন চালাতে বাধ্য হয়।
আরাগচি জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সারা দেশে দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার কাজ চলছে। বিশেষ করে দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোয় দ্রুত সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নাম উল্লেখ না করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইতিহাসের ‘অহংকারী স্বৈরশাসকদের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। খামেনি লিখেছেন, ‘যিনি দম্ভের সঙ্গে বসে সারা বিশ্বকে বিচার করছেন, তিনি জেনে রাখুন—ফেরাউন, নমরুদ ও রেজা শাহর মতো অহংকারী শাসকেরা যখন ক্ষমতার চূড়ায় ছিলেন, তখনই তাদের পতন হয়েছিল। তার (ট্রাম্প) পতনও অনিবার্য।’
ইরান সরকার বিক্ষোভের সময় নিহত শহিদদের জন্য তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে।