পাঁচ ইরানি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বিরুদ্ধে ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনের পরিকল্পনা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখার মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
যুক্তরাষ্ট্র আরও বলেছে, ইরানি নেতাদের অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোয় পাঠানো হচ্ছে কি না, সেদিকে তারা নজর রাখছে।
মার্কিন অর্থ দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমান্ডারসহ মোট পাঁচ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে এই কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ দমনের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফারদিস কারাগারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের অভিযোগ, এ কারাগারে নারীরা ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অপমানজনক আচরণের’ শিকার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘ইরানের নেতাদের প্রতি ওয়াশিংটনের বার্তা স্পষ্ট। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জেনেছে যে আপনাদের অবস্থা ডুবে যাওয়া জাহাজের ইঁদুরদের মতো। সংকটময় মুহূর্তে নিজেরা বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে ইরানি পরিবারগুলোর কাছ থেকে চুরি করা অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা সেই অর্থ ও আপনাদের খুঁজে বের করব।’
বেসেন্ট আরও বলেন, ‘আপনারা আমাদের সঙ্গে একত্র হয়ে কাজ করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আছে। যেমনটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন যে সহিংসতা বন্ধ করুন এবং ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ান।’
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানিদের স্বাধীনতা ও ন্যায়ের দাবির পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। অর্থ দফতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নেপথ্যে থাকা সবাইকে শাস্তি দিতে সব ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করবে।’
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি মিশনের কাছ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের শাসকগোষ্ঠী দেশটিতে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য তাদের দীর্ঘদিনের শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
বৃহষ্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, যেসব অর্থনৈতিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল, তার কিছু সমাধানের চেষ্টা করছে সরকার। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত বিনিময় হারের সমস্যাগুলো মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানে জিনিসপত্রের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে দেশটিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার সূচনা হয়। এটি ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানের ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বলেছে, এ পর্যন্ত তারা ২ হাজার ৪৩৫ জন বিক্ষোভকারী ও ১৫৩ জন সরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি নিহত হওয়ার তথ্য যাচাই করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভ দমনে দেশটির শাসকগোষ্ঠীও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
মার্কিন অর্থ দফতর আরও ১৮ জনের ওপর পৃথক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘ছায়া ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন। মূলত বিদেশি বাজারে ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রির অর্থ পাচারের সঙ্গে তারা জড়িত বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।